প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১১
জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি
সংগৃহীত ছবি
হাওরাঞ্চলের কৃষক, মজুর ও মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা রক্ষা এবং হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে কৃষক মজুর মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটি। দাবিগুলো বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
বুধবার বিকালে দেওয়া স্মারকলিপিতে হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষি উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা, ফসল রক্ষা বাঁধ, জলমহাল ইজারা, বালু-মাটি উত্তোলন, বজ্রপাত ও জলাবদ্ধতাসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিবছর হাওরের কৃষকরা ফসলহানির ঝুঁকিতে পড়েন। একই সঙ্গে নদী ও হাওর থেকে অবাধে বালু-মাটি উত্তোলন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং জলমহাল ইজারার কারণে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা সংকুচিত হচ্ছে। হাওর রক্ষা বাঁধের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে হারভেস্টার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মহাসিং নদী থেকে সৃষ্ট উথারিয়া গাংয়ের ইজারা বাতিল করে এটিকে উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষণা এবং সাধারণ মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে মাছ ধরার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি করা হয়।
এর আগে বেলা সাড়ে এগারোটায় জেলা শহরের আলফাত স্কয়ারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পরে দুপুর সাড়ে বারোটায় সমাবেশ থেকে দশ দফা দাবিতে মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
দুপুর একটার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান এর নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক সাহেব আলী, ফয়জুল খাঁ, আব্দুল ওয়াহাব, সফাত উল্লাহ, আবিদুল হক সহ অন্যান্য সদস্যরা।
সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষে ১০ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের দাবীসমূহ আমলে নিয়েছেন এবং দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন