পানির প্রাচুর্যের মধ্যেও নিরাপদ পানির সংকট

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৩

এক হাতে কলস, অন্য হাতে বৈঠা। এক কলস সুপেয় পানির জন্য প্রতিদিনই যেন তাদের ছুটে চলা। কখনো নৌকায়, কখনো কাদামাটির পথ মাড়িয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয় দূরের গ্রামে। চারপাশে পানি, অথচ পান করার মতো নিরাপদ পানি নেই। এভাবেই বছরের পর বছর কাটছে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওরপাড়ের লোকমানপুর গ্রামের ৩০টি পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক মানুষের দিনকাল।

 


হাওরবেষ্টিত প্রত্যন্ত এই গ্রামে বসবাস নিম্ন আয়ের জেলে ও কৃষকদের। দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন তারা। গ্রামে নেই কোনো সরকারি টিউবওয়েল কিংবা নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা। এ কারণে পাশের বাহাদুরপুর গ্রামের সাবমার্সিবল টিউবওয়েলের উপর নির্ভর করেই প্রতিদিনের খাবার পানির চাহিদা মেটাতে হচ্ছে তাদের।


বর্ষায় চারপাশে থইথই পানি। নৌকা নিয়ে তখন ছুটতে হয় দূরের গ্রামে। ঝড়—বৃষ্টি শুরু হলে সেই যাত্রাও হয়ে উঠে ঝুঁকিপূর্ণ। আর হেমন্তে হাওরের পানি শুকিয়ে গেলে নৌকার বদলে শুরু হয় পায়ে হাঁটার পালা। কাদামাটির পথ পেরিয়ে কলস কাঁখে পানি নিয়ে ফিরতে হয় বাড়িতে।

 


মোছা. খুরশেদা আক্তার বলেন, গ্রামের সব পরিবারের মানুষই পাশের বাহাদুরপুর থেকে পানি আনে। এখন হাওর শান্ত, ঢেউ নেই। কিন্তু যখন ঝড়—বৃষ্টি থাকে তখন পানি আনা যায় না। বাধ্য হয়ে নদীর পানি ব্যবহার করতে হয়।  বেশিরভাগ সময়ই নদী দিয়ে গরু—ছাগলসহ বিভিন্ন জীবজন্তুর লাশ ভেসে আসে। কিন্তু প্রয়োজনের কারণে সেই পানিই আমাদের ব্যবহার করতে হয়। সরকার যদি খাবার পানির ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে বাকি জীবন শান্তিতে কাটানো যাবে।
লোকমানপুর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ চাঁন মিয়া বলেন, গ্রামে কোনো টিউবওয়েল নেই। তাই কাদা—পানি মাড়িয়ে অন্য গ্রাম থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে আর শুকনা মৌসুমে পায়ে হেঁটে পানি আনতে হয়। গ্রামে একটি সরকারি টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা হলে দীর্ঘদিনের এই কষ্ট লাঘব হবে।


গ্রামটির নাম যার নামে, সেই লোকমান মিয়া বললেন, বাহাদুরপুর থেকে অনেক সময় নৌকা দিয়ে, এমনকি সাঁতার কেটেও পানি আনতে হয়। প্রায় ১৫—১৬ বছর ধরে টিউবওয়েলের জন্য দরখাস্ত দিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের দরখাস্ত মঞ্জুর হয় না। পানির জন্য খুব কষ্ট করছি।

 


লোকমানপুরের এই মানুষের পানির কষ্টের সাক্ষী পাশের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দারাও। ওই গ্রামের পূর্ণলক্ষী বর্মন বলেন, লোকমানপুর মুসলিমহাটি মানুষজন আমাদের বর্মনহাটি থেকে খাবার পানি নেয়। বর্ষাকালে তারা নৌকা করে পানি নেয়, আর হেমন্তকালে পায়ে হেঁটে আসে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন লোকমানপুর গ্রামে টিউবওয়েল নেই। এ জন্যই তাদের কষ্ট করে আমাদের কাছ থেকে পানি নিতে হয়।

 


স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন—নিবেদন করেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু তাদের জীবনে কাটেনি সুপেয় পানির সংকট। 
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকিনা আক্তার বলেন, উপজেলা ওয়াটসান কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে, যদি আমাদের মনে হয় যে আসলে তাদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বাস্তবতার নিরিখে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। এরপর ওয়াটসান কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং সরকারের বরাদ্দ সাপেক্ষে তাদের জন্য সাবমার্সিবল টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার