প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩৬
নারী এশিয়া কাপ
সংগৃহীত ছবি
নারী এশিয়া কাপে দারুণ বোলিংয়ের সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১০৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশের মেয়েরা। জবাবে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত থামে ৬৯ রানে।
‘বি’ গ্রুপে তিন ম্যাচে দুই জয় ও ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স-আপ হয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে দুই দলের শেষ চারের লড়াই। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল বোলারদের। ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করে ২ উইকেট নিয়েছেন মারুফা আক্তার। তিন ম্যাচে ২১ বছর বয়সি এই পেসারের শিকার এখন ৭ উইকেট।
মারুফার সঙ্গে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন একাদশে ফেরা লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার পান ২ উইকেট। এছাড়া সুলতানা খাতুন ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে এবং ফাহিমা খাতুন ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে একটি করে উইকেট নেন।
১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রথম ওভারেই অধিনায়ক ইশা ওজাকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। পঞ্চম ওভারে সামাইরা ধরনিধরকাকে আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মারুফা।
পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে মাত্র ১৫ রান সংগ্রহ করে আমিরাত, যা এবারের টুর্নামেন্টে তাদের সর্বনিম্ন পাওয়ার প্লে স্কোর। এরপরও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি স্বাগতিকরা।
অষ্টম ওভারে বল হাতে এসে রিনিথা রজথকে সাজঘরে ফেরান রাবেয়া। দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকা ওপেনার তীর্থ সতীশকে আউট করেন সুলতানা খাতুন। পরের ওভারে নাহিদার বলে বিদায় নেন লাবণ্য কেনি। ফলে মাত্র ৩৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় আমিরাত।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬৯ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। তিন ম্যাচে এক জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে স্বাগতিক দল।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই কোনো রান না করে ফেরেন দিলারা আক্তার। পরের ওভারে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন সোবহানা মোস্তারি। মাত্র ৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও তরুণ ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস।
তবে তাদের জুটি স্থায়ী হয় ৩১ রান পর্যন্ত। বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ১৬ রান করে আউট হন জুয়াইরিয়া। এরপর শারমিন আক্তার সুপ্তাকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন জ্যোতি। কিন্তু ১১তম ওভারে একটি ফুল টস বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ২৩ রানেই থামতে হয় বাংলাদেশ অধিনায়ককে।
এরপর স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। ফলে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৫ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
এ অবস্থায় চলতি আসরে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া শারমিন আক্তার সুপ্তা হাল ধরেন। সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৪৩ বলে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। বাংলাদেশের সপ্তম উইকেটের জুটিতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
এই জুটির ওপর ভর করেই একশ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩১ বলে ৩৮ রান করেন সুপ্তা, যেখানে ছিল তিনটি চার। অন্যদিকে ক্যারিয়ারসেরা ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন নাহিদা।
শেষ পর্যন্ত ১০৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। আমিরাতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন সুরক্ষা। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি।
ব্যাটিংয়ে শুরুতে ধাক্কা খেলেও বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত বড় জয় তুলে নিয়ে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন