প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৯
সংগৃহীত ছবি
মানবদেহ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নানা ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। কিছু স্বাস্থ্যসমস্যা সহজেই শনাক্ত করা যায়। কিন্তু কিছু সমস্যা ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং শুরুতে তেমন স্পষ্ট নাও হতে পারে। যেমন, কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি অস্বাভাবিক কিছু উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে, যা ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। তখন সমস্যার কারণ কী, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিশেষজ্ঞ লুক কুটিনহো সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে এ ধরনের কিছু লক্ষণ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, আপনার কি আগের তুলনায় বেশি চুল পড়ছে? ত্বক কি আগের চেয়ে নিস্তেজ বা ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে? পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুমের পরও কি আপনি ক্লান্ত বোধ করছেন? আগের তুলনায় কি মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে?
লুকের মতে, এসব উপসর্গকে প্রায়ই মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম বা বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। তবে এগুলো শরীরে ফেরিটিনের মাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।
লুক বলেন, ফেরিটিন হলো শরীরে আয়রন সঞ্চয় করে রাখার একটি প্রোটিন। এটিকে শরীরের আয়রনের মজুত হিসেবে ভাবতে পারেন। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে অ্যানিমিয়া হওয়ার অনেক আগেই শরীরে ফেরিটিনের মজুত কমে যেতে পারে। ফলে তখনও অ্যানিমিয়া না থাকলেও বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
শুধু হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক আছে কিনা, তা দেখার পরিবর্তে লুকের মতে, প্রশ্ন হওয়া উচিত আমার ফেরিটিন কম কেন? তিনি বলেন, সমস্যার মূল কারণ বোঝা জরুরি। এতে একই সমস্যা বারবার হওয়া এড়ানো সম্ভব। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি আয়রনসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
লুক আরও কয়েকটি পুষ্টি উপাদানের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলেছেন, যেগুলো শরীরে আয়রনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে—
১. ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। তাই তিনি আমলকি, পেয়ারা, বিভিন্ন সাইট্রাস ফল, কিউই বা ক্যাপসিকামের মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
২. পর্যাপ্ত প্রোটিনও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরের আয়রন তৈরি ও পরিবহণের প্রক্রিয়ায় এটি ভূমিকা রাখে। ডাল, বিভিন্ন ধরনের শিমজাতীয় খাবার, দুধজাত খাবার, ডিম, মাছ, মুরগি, টোফু ও টেম্পে প্রোটিনের ভালো উৎস হতে পারে।
৩. তিনি কপার (তামা)-এর কথাও উল্লেখ করেন। এটি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত একটি খনিজ, কিন্তু শরীরে আয়রনের বিপাকে এর ভূমিকা রয়েছে। বাদাম, বীজ, কোকো, মাশরুম, তিল ও মসুর ডাল থেকে কপার পাওয়া যেতে পারে।
৪. এছাড়া ফোলেট ও ভিটামিন B12 ও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। এই দুই পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতির কারণ হতে পারে।
৫. লুক আয়রনসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে গার্ডেন ক্রেস সিড বা হালিম, মসুর ডাল, ছোলা, কুমড়ার বীজ, সয়া, টোফু, টেম্পে, ডিম, মাছ ও মুরগি খাওয়ার পরামর্শ দেন। শুধু পালং শাকের মতো একটি দুটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ তিনি দিয়েছেন।
স্বাভাবিক আয়রন মাত্রা বজায় রাখতে সহজ অভ্যাস
লুক কয়েকটি সহজ অভ্যাসের কথাও বলেছেন। আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রন শোষণ বাড়তে পারে। পাশাপাশি আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে চা কফি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রান্নার ধরন অনুযায়ী কিছু খাবার কাস্ট আয়রন বা লোহার পাত্রে রান্না করাও সহায়ক হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তবে লুক সতর্ক করেছেন যে নিজের ইচ্ছায় আয়রন সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়। শরীরে অতিরিক্ত আয়রনও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন