প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৯
ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল সই
সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল সই হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। সই হওয়া দলিলগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ইয়েন (১০ কোটি ৮ লাখ মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। এ ছাড়া উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন (১৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দলিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার) অনুদান চুক্তি রয়েছে।
এ ছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা জোরদারে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এসব দলিল, সহযোগিতা স্মারক ও ঋণের প্রতিশ্রুতিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের তৃতীয় দিনে গতকাল বুধবার রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ বেড়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন জাপানের কাছে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি জাপানের সমর্থনের বিষয়টি উঠে এসেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টায় তাঁর সরকারের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্ব দিয়েছে।
সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর ও দুটি ইয়েন ঋণ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়ায় এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও বিভিন্ন খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। সরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বাংলাদেশের প্রতি জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। সফরকালে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহের কথা উঠে এসেছে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী গতকাল জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: সমকাল .কম
এমডি
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন