প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৯
জামালগঞ্জে দুই কিশোরের খেলার সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়েরের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। খেলায় আঘাত পেয়ে এক কিশোরের কাঁধের হাড় ভাঙার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে খোকন ও রুবেল নামের দুই নির্দোষ ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা—সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর জামালগঞ্জ উপজেলার গোলামীপুর ও শাহপুর গ্রামের নাঈম ও উজ্জ্বল ওরফে মনা নামের দুই কিশোর একসঙ্গে খেলাধুলা করার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে নাঈমের বাম কাঁধের হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়। ঘটনার পরপরই মনার বাবা আব্দুন নূর আহত নাঈম ও তার বাবা নজরুল ইসলামসহ পরিবারের লোকজনকে নিয়ে হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন। তবে ঘটনার কিছুদিন পর আহত নাঈমের বাবা নজরুল ইসলাম আদালতে খোকন ও রুবেল নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের পেছনে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা ও অভিযুক্তদের পক্ষের লোকজন।
ঘটনা সম্পর্কে কিশোর উজ্জ্বল ওরফে মনা বলেন, নাঈম আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ফুটবল খেলা শেষে আমরা কুস্তি খেলা শুরু করি। একপর্যায়ে নাঈম পড়ে গিয়ে কাঁধে আঘাত পায়। এরপর আমার বাবা—মা নাঈমের পরিবারের সঙ্গে তাকে সুনামগঞ্জে নিয়ে চিকিৎসা করান। কিন্তু এখন দেখছি, খোকন ও রুবেল নামে অন্য দুজনকে মামলায় জড়ানো হয়েছে, যাদের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এদিকে অভিযোগকারী পক্ষের একটি কথোপকথনকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মনার বাবা আব্দুন নূর জানান, মামলার বাদী নজরুল ইসলাম তাঁর বাড়িতে গিয়ে ছেলের হাতের আঘাতের বিষয়টি অন্যদের কাছে প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন এবং অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কথা বলেন। এসংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, আমি যে অভিযোগ করেছি, তা সত্য। এখন নিজেদের বাঁচাতে তারা টালবাহানা শুরু করেছে এবং মিথ্যা সাক্ষী দিচ্ছে। এর আগেও তারা আমাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করেছে। তদন্ত করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতের একটি নির্দেশনা পেয়েছি এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। সঠিক তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন