প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ ২০:১৬
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতি যতটা না ক্ষতি করেছে, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি দেশে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে।
আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বিচারকদের জন্য ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতো কোনো রায় যখন আসে-যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং দেশকে ফ্যাসিবাদের পথে ঠেলে দিয়েছে— তখন আমি একে কেবল আর্থিক দুর্নীতির ফল বলব না; বরং এই সংশোধনীর রায়টি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ফসল।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, যারা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ও দুর্নীতিগ্রস্ত এবং যারা সুপ্রিম কোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করা উচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আজকের পরিস্থিতির দিকে তাকান, বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ নীরব হয়ে বসে আছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে যারা নিহত হয়েছেন কিংবা যারা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের বিষয়ে তারা কিছুই বলছেন না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিচারকদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে জনমনে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এই ধারণা দূর করার দায়িত্ব যেমন আমাদের রয়েছে, তেমনি আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। এই ধারণা দূর করার ক্ষেত্রে আপনারা কী ভূমিকা পালন করবেন, তা আপনাদের বিবেকের বিষয়।
আপনারা যে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তা মনে রাখবেন। আপনাদের প্রতিযোগিতা সচিবদের সঙ্গে নয়। প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে নিজেদের মেলানোর চেষ্টা করবেন না। তাহলে ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায় এবং ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ব্যত্যয় হবে। মনে রাখবেন, আপনারা প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
সংবিধান সংশোধনে টিআইবির যেকোনো জনকল্যাণমুখী প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হবে উল্লেখ করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে লিখিত সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যদিও এই প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই, বিষয়টি ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রত্যর্পণ চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত। আবেগ দিয়ে নয়, বরং আইন অনুযায়ীই বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে। আমরা চুক্তির শর্তানুসারে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস ও সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর রোমানা শোয়েগার বক্তব্য রাখেন।
সূত্র:বাসস.কম
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন