প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৮:৩২
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন মাটিয়ান হাওর ফসল রক্ষা বাঁধের ৬২ নম্বর প্রকল্পের সদস্য সচিব তোফাজ্জল। তোফাজ্জল তিন বছর ধরে ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক শিল্পে চাকুরী করে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাহিরপুর শাখার আওতায় নির্বাচিত পিআইসি’র তালিকায় ৬২ নম্বর প্রকল্পে সদস্য সচিবের নাম রয়েছে তোফাজ্জলের। ওই প্রকল্পের সভাপতি হচ্ছেন নুরুল হুদা। সভাপতি এবং সদস্য সচিব তারা দু’জনের বাড়ী উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। ৫ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় এই প্রকল্প কাজের প্রাক্ষলন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ লক্ষ টাকা। কাজের টাকা উঠানোর জন্য সোনালী ব্যাংক তাহিরপুর শাখায় হিসাব খোলা হয়েছে প্রকল্পের সভাপতি নুরুল হুদা ও তোফাজ্জলের নামে। নির্মাণ কাজের আগাম ২৫ ভাগ বিল ৫ লক্ষ টাকা ছাড় দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন তোফাজ্জলের ছোট ভাই মোফাজ্জলের স্বাক্ষরে। ব্যাংক হিসাব খোলার সময়ও তোফাজ্জলের স্বাক্ষর মোফাজ্জল দিয়েছে।
শ্রীপুর গ্রামের কৃষক কলিন মিয়া বলেন, তোফাজ্জল ও মোফাজ্জল তারা শনির হাওরপাড়ের বাসিন্দা। শনির হাওর কিংবা অন্য কোন হাওরে তাদের এক ছটাক পরিমান জমি নেই। এ অবস্থায় কিভাবে হাওরের বাঁধ নিমার্াণের প্রকল্পের সদস্য সচিব হয় বিষয়টি তাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। এ বিষয়ে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মাটিয়ান হাওর ফসল রক্ষা বাঁধের ৬২ নম্বর প্রকল্পের সদস্য সচিব তোফাজ্জল বলেন, আমি তিন বছর ধরে ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক শিল্পে চাকুরী করে আসছি। এ প্রকল্পে আমার নাম কে বা কারা সংযুক্ত করেছে আমার জানা নেই।
তোফাজ্জলের ছোট ভাই মোফাজ্জল বলেন, হাওরের বাঁধের কাজটি গ্রামের গোলাম সরোয়ার ডালিম মেম্বার করায়। আমি শুধু ভাই তোফাজ্জলের স্বাক্ষর ব্যাংকে টাকা উঠানোর সময় দেই।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ বলেন, মাটিয়ান হাওরের একটি প্রকল্পে এ ধরণের অভিযোগ আমাকে শ্রীপুর গ্রামের লোকজন বলেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন