প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৯:৪২
শাবিপ্রবিতে যানবাহন
শাবিপ্রবিতে যানবাহন
প্রতিদিন একটি বাসের নির্দিষ্ট সিটের চেয়ে দ্বিগুণ যাত্রীর ভিড়ের মধ্যে বাসে করে ক্লাসে আসা, সারাদিন ক্লাস শেষে ক্লান্তিকর শরীর নিয়ে আবার সেই একই অবস্থায় বাসের ভিড়ে দাঁড়িয়ে বা দরজার সামনে ঝুলে ঝুলে আবার মেস, বাসা বা জীবিকার তাগিদে টিউশনে যাওয়া এগুলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের পরিবহন ভোগান্তির রোজকার চিত্র। কখনোবা বাসে ঝুলার জায়গাও মিলে না তাদের। তখন নিরুপায় হয়ে বেছে নিতে হয় শহরের অন্যতম পরিবহন সিএনজি।
সেখানে তাদের নিত্যনতুন ভাড়া বৃদ্ধির সিন্ডিকেটের পাশাপাশি কখনোবা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ এর মাধ্যমে ছিনতাইয়ের আতঙ্ক, কখনো বা অন্য যাত্রীদের দ্বারা মেয়েদের ইভটিজিংসহ সম্মুখীন হতে হয় ভয়ঙ্কর সব সমস্যার। বিগত বছরগুলোতেও বাসের সংখ্যার পাশাপাশি বাসের ট্রিপ বাড়ানোর দাবি তুলে আসলেও এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আট হাজার ৫৭ জন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মোট বরাদ্দকৃত বাসের সংখ্যা নয় টি। প্রতিটি বাসে মোট সিট সংখ্যা আছে ৫২টি। সে অনুযায়ী বাসের মোট সিট সংখ্যা ৪৬৮টি। তাহলে হিসাব করে দেখা যায়, গড়ে প্রায় ৮৯৬ জন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস এবং প্রায় ১৮ জন শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের একটি করে সিট বরাদ্দ আছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকে। ফলে ক্লাস শেষ করে ভার্সিটির বাসে মেস বা বাসায় ফিরতে চাইলেও পর্যাপ্ত বাস না থাকায় এবং বাস শিডিউল না মেলায় সিএনজি দিয়ে ফিরতে হয়। এক্ষেত্রে ভাড়ার সমস্যা তো আছেই, এরমধ্যে ড্রাইভারদের বাজে ব্যবহার, সিএনজিতে ছিনতাই চক্র সহ বর্তমান আতঙ্ক শয়তানের নিঃশ্বাসের মাধ্যমে স্টুডেন্টদের থেকে ছিনতাই এবং মেয়ে স্টুডেন্টরাও ইভটিজিংয়ের স্বীকার হচ্ছে। তাই শাটল বাস অথবা বাস সংখ্যা এবং শিডিউল বাড়িয়ে সকাল আট টা থেকে রাত আট টা পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় ক্যাম্পাস থেকে শহরের বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করলে সিএনজি সমস্যা, শয়তানের নিঃশ্বাস সমস্যা, ভাড়া সমস্যা, বাসের ভিতরে ভিড়সহ ট্রান্সপোর্টের যাবতীয় সমস্যা সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।
সিএনজি দিয়ে যাতায়াতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়া এখন প্রতিদিনকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, প্রতিদিন ক্লান্তিকর ক্লাস শেষে ছেলে-মেয়েদের একই ভিড়ের মধ্যে বাসে করে যাতায়াত করতে হয়। মাঝে মাঝে এই ভিড়ের মধ্যেও জায়গা পাই না। এদিকে আবার সকাল নয়টা থেকে একটা এবং এদিকে সন্ধ্যার পর রাত আটটার আগে পর্যন্ত কোনো বাস থাকে না। তখন কোনো উপায় না পেয়ে সিএনজি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত সিএনজি ড্রাইভার, বখাটেদের ইভটিজিং এর শিকার হতে হয় আমাদের। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কোন বাস না থাকায় টিউশন থেকে ফিরার পথে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগতে হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।
এ ব্যাপারে পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক এএফএম জাকারিয়া বলেন, এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছি। যদি নতুন বাস ক্রয় করা সম্ভব না হয়, তাহলে বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে।
বিগত কিছুদিন যাবত মেয়েদের জন্য আলাদা একটি বাসের দাবি করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। এ ব্যাপারে তিনি জানালেন, এটাও আলোচনা চলছে। যদি পর্যাপ্ত বাসের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে মেয়েদের জন্য একটি আলাদা বাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সংকটের বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন বাস ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত বাস ভাড়া নিয়ে এ সংকট মোকাবিলার কাজ চলছে।
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন