২৫ কোটি টাকার ৫ সেতুর কাজ অনিশ্চিত

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ২৩:০০

জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ জগদীশপুর সেতু -ছবি. সুখবর

জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কাজ চার বছর ধরে বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ঠিকাদার নিয়োগের পরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় কাজ বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে সেতুর কাজ পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ শুরু না হওয়ায় জনদুর্ভোগের শিকার এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 


এলাকাবাসী ও  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২২ সালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু নির্মাণ প্রকল্পের একটি প্যাকেজে জগন্নাথপুর উপজেলার ৫টি সেতু নতুন করে নির্মাণের জন্য অনুমোদন পায়। সেতুগুলো হলো— কলকলিয়া  ইউনিয়নের জগদীশপুর সেতু, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও সেতু, পাটলি ইউনিয়নের লাউতলা ও রসুলগঞ্জ  সেতু, মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামের সেতু। ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দে এই প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল ঢাকার  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. জামিল ইকবাল। গত ৩০ জুন প্রকল্পের কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাজের কোন অগ্রগতি না থাকায় জুলাই মাসে কাজ বাতিল করা হয়। 

 


কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের তরুণ সমাজকর্মী ফাহিম আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর জন্য অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। মনে হয় যেন এসব দেখার কেউ নেই। শুনলাম টেন্ডার হয়েছে, পুলের কাজ হইব— অকন কামের কোন খবর নাই, অকন শুনি কাম হইত নায়, নয়া করে ইববার টেন্ডার দিত হইব।

 


ঘোষগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, দুঃখের কথা বলার ভাষা নেই। ঠিকাদারদের নৈরাজ্যের কারণে সেতু, সড়ক কোন কিছুর সংস্কার কাজ শেষ হচ্ছে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে নাগরিকদের জীবন দুবিষহ হয়ে উঠেছে— এর বড় উদাহরণ আমরা। কবে হবে ঘোষগাঁও সেতুর কাজ ও শিবগঞ্জ সড়ক বুঝে উঠতে পারছি না। 
লাউতলা গ্রামের দবির মিয়া জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু নির্মাণ না হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের দরজায় ঘুরে আমরা ক্লান্ত, ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেন নি।

 


স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, আমরা ঠিকাদারকে বার বার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু ঠিকাদার আমাদের চিঠির কোন উত্তর দেয়নি। নিদিষ্ট সময় ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ না করায় তাদের কাজ বাতিল করা হয়েছে। এখন নতুন দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে এ কাজগুলো করার উদ্যাগ নেয়া হয়েছে। 
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, আমি এ উপজেলায় যোগদান করেই বিষয়টি জানতে পেরে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি, কিন্তু কোন সাড়া মিলেনি। নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার