প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ২২:৫৭
ধর্মপাশায় ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে ফোন করে সন্তানকে আটকে রাখার ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি স্থানীয় একাধিক শিক্ষকের কাছে একই কৌশলে ফোনকল আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত প্রতারণার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক নাজমুল হক খোকন জানান, সম্প্রতি ০১৭০৮৫৮৪৪৭০ নম্বর থেকে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইলে একটি কল আসে। কলকারী নিজেকে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তাঁর ছেলে তাঁদের হেফাজতে রয়েছে। তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে হলে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে, অন্যথায় এক লাখ টাকা দিতে হবে।
হঠাৎ এমন খবরে কিছুটা আতঙ্কিত হলেও শিক্ষক নাজমুল হক সংবিৎ ফিরে পান। কথোপকথনের একপর্যায়ে প্রতারক তাঁর ছেলের পেশা জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর ছেলে একজন পেশাদার আইনজীবী। এ কথা শুনতেই প্রতারক চক্রটি তড়িঘড়ি করে ফোনের সংযোগ কেটে দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি।
নাজমুল হক খোকনের সেই ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে জানা যায়, একই ধরনের ভুক্তভোগী হয়েছেন আরেক স্থানীয় শিক্ষক শাহ এনামুল হকও। তিনি বলেন, আমার কাছেও একইভাবে ডিবি পরিচয়ে ফোন আসে। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি কোনো গুরুত্ব দিইনি। মনে হচ্ছে এই চক্রটি সতর্কভাবে তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন মানুষকে নিশানা বানাচ্ছে।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম ফজলে রাব্বী রাজিব বলেন, প্রতারক চক্রগুলো সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এই ধরনের আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। অপরিচিত নম্বর থেকে এই ধরনের কল এলে কোনো অবস্থাতেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না, শান্ত থাকতে হবে। তথ্য যাচাই করতে হবে ও প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৪ জুন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকায় একইভাবে প্রতারণার ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হকের বড় ছেলে ইমাদ হক। পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র সে। স্কুল চলাকালীন সময় নূরুল হকের কাছে কল আসে ইমাদকে গ্রেপ্তার করেছে শান্তিগঞ্জ থানার কামরুল নামের একজন এসআই। তিনি দাবি করছেন, ইমাদের কাছে মাদক পাওয়া গেছে। তাকে ছাড়াতে হলে দ্রুত কথিত ওই পুলিশের নম্বরে ২৫ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। তারা যখন কথা বলছিলেন তখন কথার পেছনে পুলিশের গাড়ির সাইরেন, বাঁশির হুইসেল বাজছিলো অনবরত। মনে হচ্ছিলো কোনো কমান্ডো অপারেশন চলছে। তারা জানায়, ইমাদের সাথে নেশায় আক্রান্ত আরো দু’জনকে আটক করা হয়েছে যারা পেশায় সিএনজি চালক। ঘটনার বিবরণ শুনে বাবা নূরুল হক প্রথমে বাসায় ও পরে স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ছেলে ইমাদ হক স্কুলেই ক্লাস করছে। পরে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারক চক্রের কল ছিলো এটি। ইমাদ গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি কিছুক্ষণের জন্য তার পরিবারের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিলো। বাবা নূরুল হককে গভীর চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলো। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৬ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে।
একই ঘটনা ঘটেছে একই ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও মনবেগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সাইদুল হকের সাথে। তাঁর বড় ছেলে মাহবুবুল হক হাসান চাকুরি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে আছেন। শিক্ষক বাবাকে কল দিয়ে এসআই কামরুল পরিচয় দিয়ে হাসানকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে টাকা দাবি করা হয়। এখানেও মুঠোফোনের পেছনে পুলিশের গাড়ির সাইরেন ও বাঁশি বাজছিলো। সাজানো হয় গ্রেপ্তার নাটক। তিনিও যাচাই বাছাই করে নিজের ছেলের সাথে কথা বলে বিষয়েটিকে প্রতারণা বলে চিহ্নিত করে কথিত পুলিশের ফোন কেটে দেন। তাঁর সাথে এই ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ জুন, মঙ্গলবার।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন