প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:৪৩
জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে সমালোচনা
ছবি -সু.খবর
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে নানা অনিয়ম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে নানা সমালোচনার তৈরি হয়েছে। এ সমালোচনার সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে উপাচার্যে্যর গাড়ি আটক করে বিক্ষোভ ও জবাবদিহিতা চেয়েছে শাখা ছাত্রদল নেতা—কর্মীরা। এর সুষ্ঠু সমাধানের আগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি রাহাত জামান।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে সকালে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উদযাপনের মধ্যেই অনুষ্ঠানটি বয়কট করে চলে আসেন ছাত্রদলের নেতা—কর্মীরা। পরবর্তীতে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সমালোচনার তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে ছাত্রদলেএ যুগ্ম—সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম ছাত্রদল এ অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দিয়ে লিখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রামে রেজিস্ট্রার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রটোকল অনুসারে সঞ্চালনা করে থাকে। কিন্তু আজকের প্রোগ্রামটি ছিলো এ থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। পুরো আয়োজনটি একচেটিয়াভাবে কয়েকদিন আগে বিলুপ্ত হওয়া ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন—এর নেতৃবৃন্দ পরিচালনা করেন এবং সঞ্চলনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তারাই পালন করতেছে।
আমরা এর আগে দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ফান্ডিংয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং অন্যান্য কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী জুলাই উপলক্ষ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি স্থগিত রেখে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে প্রশাসন অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সাথে স্পষ্ট প্রতারণা।
যেখানে এটি ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রাম, সেখানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ছিলো অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত ছাত্র সংগঠনের নেতারাই প্রোগ্রাম পরিচালনায় সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত ছিলেন, যা প্রোগ্রামের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এই ধরণের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বৈষম্যমূলক অনুষ্ঠান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল বয়কট করেছে।
এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে ছাত্রদল সভাপতি রাহাত জামানের সাথে কথা বললে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠান বয়কটের কথা জানিয়ে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থান ছিলো সবার। সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট একটা গুষ্টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রশাসনের প্রোগ্রামে সাবেক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আমাদের কেনো দাওয়াত দিবে? যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই অনুষ্ঠান পরিচালনার কথা সেখানে সাবেক সমন্বয়ক ও বৈবিছায়া নেতারা পরিচালনা করছে। তাদের ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাই আমরা এই অনুষ্ঠান বয়কট করলাম।
উপাচার্যে্যর গাড়ি আটক করে বিক্ষোভ মিছিলের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা এই অনিয়মের জবাবদিহিতা এবং সুষ্ঠু সমাধানের চেয়েছি। যতক্ষণ পর্যন্ত না এগুলো হবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করবো।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, এই প্রোগ্রামটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে এবং সবাইকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তারা মনে করছে যে সাবেক সমন্বয়কদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছে।
উপাচার্যে্যর গাড়ি আটক এবং সমাধান না করা পর্যন্ত অবস্থান নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, যে কেউ চাইলে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেওয়া বা আন্দোলন করতে পারে। আমরা অতি শীগ্রই আলোচনার মাধ্যমে এর একটা সুষ্ঠু সমাধানে আসবো।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
জআ
সিলেট থেকে আরো পড়ুন