শাবিপ্রবিতে নেই গ্রুপ স্টাডি করার নির্দিষ্ট স্থান

প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৫ ২২:০৫

‘দশে মিলে করি কাজ/ হারি জিতি নাহি লাজ’। পড়ালেখা হোক বা অন্য যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটা সবসময়ই ছোটবেলা থেকে আমাদের একসাথে কাজ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করে আসছে। ক্লাস করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ই বিভিন্ন গ্রুপ ওয়ার্ক, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন বা ক্লাসে পড়া বুঝতে প্রতিদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় দলবেঁধে এসব বিষয় নিয়ে বসতে দেখা যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের। কিন্তু অতি প্রয়োজনীয় এই কাজ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোনো নির্দিষ্ট স্থান। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থাকলেও সেখানে বাইরে থেকে কোনো বই নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। তাই দীর্ঘদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য বই নিয়ে গ্রুপ স্টাডি করার জন্য একটা নির্দিষ্ট স্থানের দাবি তুলে আসছেন। এদিকে ক্যাম্পাসে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থাপনার কাজ চলমান থাকলেও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এ দাবি নিয়ে প্রশাসনকে এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।  
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টার, গোল চত্বর, ফুড কোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টং বা বিভিন্ন বেঞ্চে বসে একসাথে শিক্ষার্থীদের গ্রুপ স্টাডি করছে। সেসব স্থানের মধ্যে ইউসি ভবন ছাড়া অন্য কোথাও ইন্টারনেট সেবা, ফ্যান এবং বসার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। তীব্র গরমে এসব জায়গায় পড়াশোনা বা কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে পাবলিক প্লেস হওয়ায় এসব জায়গা গ্রুপ স্টাডি করার উপযোগী না। 
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চারতলা বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থাকলেও সেটাএ প্রথম ও দ্বিতীয় তলা পুরোটাই গ্রন্থাগার প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন অফিসে ভরপুর। তৃতীয় ও চতুর্থ তলা পুরোটা গ্রন্থাগারের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও সেখানে বাহির থেকে বই নেওয়ার অনুমতি নেই। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত মানসম্মত বই না থাকার অভিযোগ আছে শিক্ষার্থীদের। তাই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা বইপত্র নিয়ে গ্রুপ স্টাডি করার জন্য একটা উপযোগী স্থানের দাবি করে আসছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাহাত হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীরা গ্রুপ স্টাডির মাধ্যমে পড়াশোনা করে কিন্তু শাবিপ্রবিতে এক ভিন্ন চিত্র। এখানে না আছে লাইব্রেরিতে একাডেমিক/নন একাডেমিক বইয়ের সম্পূর্ণতা না আছে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বই নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনকে লিখিত এবং মৌখিক ভাবে জানালেও কোন সমাধান আসে নাই। তাই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নিজেদের পছন্দ মতো বই নিয়ে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য প্রশাসনের নিকট বিনীত অনুরোধ করছি।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. এছাক মিয়া বলেন, আমরা এই সমস্যাটা নিয়ে অবগত আছি এবং এটা সমাধানের পরিকল্পনা আছে। আমাদের যে লাইব্রেরি আছে সেটা তো আসলে শতভাগ লাইব্রেরি হিসেবে ব্যাবহৃত হচ্ছে না। এখানে অনেকগুলো অফিস আছে যেগুলো অনেক জায়গা দখল করে আছে। সবার আগে সেগুলো সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অনেকগুলো নতুন ভবন হচ্ছে, ধীরে ধীরে অফিসগুলো সেখানে সরানোর পরিকল্পনা আছে। তখন আশা করি শিক্ষার্থীদের গ্রুপ স্টাডি করার জন্য একটা সুনির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করে দিতে পারবো।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার