প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:২৩
স্থগিতাদেশ শেষ
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে শেষ হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (শাকসু) উপর হাইকোর্টের দায়ের করা ২৮ দিনের স্থগিতাদেশ। এবার কি শাকসুর আলো দেখবে শাবিপ্রবি? নির্বাচন কি হবে? এ নিয়ে প্রশ্ন জাগছে প্রার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম শেষে ২০ জানুয়ারি শাকসুর চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা ও পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও নির্বাচনের ঠিক আগেরদিন গত ১৯ জানুয়ারি শাকসুর একদিন আগে হাইকোর্টে দায়ের করা এক রিটের কারণে ২৮ দিনের স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। এর প্রতিবাদে তখন বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছিলো শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে সেশন জটের কথা চিন্তা করে কমপ্লিট শাটডাউন তুলে নেয় তারা এবং ২৮ দিনের স্থগিতাদেশ শেষে শাকসু আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেয় প্রশাসন।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটে গতকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি। শিক্ষার্থীরা রাত ১২ টার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাকসুর দাবি নিয়ে কথা বলা শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে কথা হয় শাকসুতে শিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশিরের সাথে।
তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার স্যারদের সাথে সাক্ষাৎ করে শাকসু নিয়ে কথা বলেছি। উনাদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি আদালত থেকে এ ব্যাপারে শুনানি আসতে হবে। যতো দ্রুত সম্ভব সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিয়ে রমজানের আগেই শাকসু নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে এসেছি। স্যাররাও দ্রুত এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে নতুন কোনো কর্মসূচির কথা ভাবছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসন থেকে যদি স্বাভাবিকভাবেই ভালো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তো কর্মসূচির দরকার নেই। তবে আরো যারা নির্বাচনে প্রার্থী আছেন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি চায় যে নতুন করে আবারো কর্মসূচির প্রয়োজন আছে তাহলে হবে, আর যদি সবাই মনে করে প্রয়োজন নেই তাহলে না। সবার সাথে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
.jpg)
ছাত্রদল সমর্থিত সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ক্যাম্পাস তো মাত্র খুলছে এখনো শিক্ষার্থী সবাই আসেনি। আমরা যারা শাকসুর আন্দোলনে ছিলাম সবাই চিন্তা করছি যেহেতু আমাদের ২৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা সেটা শেষ, খুব শীগ্রই দুই একদিনের মধ্যে আগের মতো আন্দোলন শুরু করবো। সকল প্যানেলের শিক্ষার্থীরা মিলে কিভাবে আন্দোলনটাকে পরিচালনা করা যায়, সে ব্যাপারে আমরা শীগ্রই একটা মিটিং ডাকছি। এই মিটিং শেষে কর্মসূচি দেবো। এখন যেহেতু আর কোনো ধরনের বাধা নেই তাই কোনো ধরনের বাহানা বা রিট করে শাকসুকে আর আটকে রাখা যাবে না। আমরা খুব শীগ্রই মাঠে নামবো এবং যেকোনো মূল্যে শাকসু আদায় করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে শাকসু নিয়ে নানা নাটকীয়তার মাঝে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র সাধারণের ঐক্যস্বর প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মুহয়ী শারদ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাকসু থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার অন্যতম একটা কারণ ছিলো আমার মায়ের অসুস্থতা। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আমি যে পোস্টটা দিয়েছিলাম, সে ব্যাপারে আমি এখনো নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়নপত্র বাতিল করার ব্যাপারে কোনো আবেদন করি নি। তখন আমি এ ব্যাপারে আরো চিন্তাধারা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। শীগ্রই আমার সাথে যারা ছিলো, তাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো।
শাকসু আদায়ের আন্দোলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, শাকসুর আন্দোলনে আমরা শুরু থেকেই ছিলাম। এখনো যদি আমরা এই পরিস্থিতিতে বুঝি যে সার্বিক আইনগতভাবে আন্দোলনটা শুরু করা উচিৎ বা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবিটা আদায় হবে ,তাহলেই আমরা এর সাথে যুক্ত হবো বা অরগানাইজ করবো।
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ দায়েরের পর শাকসু নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছেলো যে তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসন অনুমতি দিলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই। এখন যেহেতু স্থগিতাদেশ শেষ হয়েছে, এবার শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা আছে কি না এবং কবে অনুষ্ঠিত হতে পারে জানতে চাইলে শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কমিশনের নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতি ছিলো। একটা রিটের কারণে হাইকোর্ট সেটা স্থগিত করেছে। রিট হওয়ার কারণে বিষয়টা এখন প্রশাসনের উপর নির্ভর করছে। কারণ প্রশাসন এটা ডিল করছে। এখন প্রশাসনের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো। আমরা নিজেরাও অপেক্ষা করছি নির্বাচন আসলে হবে কি না বা হলেও কবে হবে। তারিখ পেলে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে নেবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পদাদিকার বলে শাকসু সভাপতি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি উপাচার্যের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রথমত শাকসু কেন্দ্রিক যে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া একমাত্র উপাচার্যের হাতে। দ্বিতীয়ত, রিট হওয়ার পর যখন শাকসু স্থগিত হয়েছিলো তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রিট ব্যাকেট করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন ফুল ক্যাবিনেটে হিয়ারিং না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছে না। হিয়ারিংটা হতে হবে। আদালত একটা নির্দিষ্ট তারিখ বা সীমারেখা দিয়ে বলতে পারে যে হয় এই তারিখের মধ্যে নির্বাচন করেন অথবা বলতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারে। এটা পেলে তখনই কার্যক্রম শুরু হবে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন