প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৪৫
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিসে সময়ানুবর্তিতা বাস্তবায়নের লক্ষে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সঠিক সময়ে অফিসে আসা এবং অফিস ত্যাগ করার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল উপস্থিতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলো তৎকালীন প্রশাসন। এই ব্যবস্থাটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতৃপক্ষ সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতার উপর নজরদারি রাখতে পারার পাশাপাশি প্রমোশনের সময় হিসাব রাখা যেতো কে কতোটুকু সেটি মেনে চলেছে।
পরীক্ষামূলক সফলভাবে প্রশাসনিক ভবনে ডিজিটাল উপস্থিতি সিস্টেমটি চালুর পাশাপাশি অন্যান্য সকল ভবনে চালুর কাজ প্রক্রিয়াধীন থাকলেও জুলাই আন্দোলনের পর প্রশাসনের অবহেলায় সেটি থমকে যায়। পটপরিবর্তনের পর থেকে বিগত প্রায় দুই বছর যাবত প্রশাসনিক ভবনের চালু ডিভাইসটিও অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্বে প্রশাসনিক ভবনে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে সবাই নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিতি দিয়ে অফিসে প্রবেশ ও ত্যাগ করলেও বর্তমানে সেই ডিভাইসটি নেই। এই চিত্রটি শুধু প্রশাসনিক ভবনের না। প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ভবনসহ সকল ভবনেই এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস লাগানো হয়েছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রায় সকল ডিভাইস খুলে নেওয়া হয়। সেই খোঁজ নিতে গিয়েই সামনে আসে স্বয়ংক্রিয় উপস্থিত সিস্টেমে প্রশাসনের অনীহার চিত্র। শুরুতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা প্রকাশ পায় সবার মাঝেই।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৮ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সময় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কাজটি শুরু করেন অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের আগে পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভবনে স্বয়ংক্রিয় উপস্থিত ডিভাইস স্থাপনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবনে পরীক্ষামূলক সফলভাবে চলমান ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উপস্থিতি নীতিমালা নিয়ন্ত্রিত হয় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে। তাই, হঠাৎ করেই পটপরিবর্তনের পর পরই কেনো এই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায় সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরের সাথে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উপস্থিতি নীতিমালা নিয়ন্ত্রিত হয় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে। শুরুতে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না জানানোর পর সেটি ব্যাখ্যা করলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
২০১৮ থেকে ২০২৪ দীর্ঘ ৬ বছর কাজ করেও কেনো সেটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় নি সেটি জানতে কথা হয় বিগত সময়ে যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন তাদের সঙ্গে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার মো. ফজলুর রহমান জানান, এই প্রজেক্টটা পরীক্ষামূলকভাবে প্রশাসনিক ভবনে চালু ছিলো এবং আমরা খুব সম্ভবত ২০২৩ সাল থেকে এটা সফলভাবে ব্যবহার করেছি। ধীরে ধীরে অন্যান্য সকল ভবনে চালু করার কাজ চলছিলো। পরবর্তীতে আন্দোলনের পর বহুদিন বন্ধ ছিলো এবং তারপরে এখন যে অবস্থায় আছে আমি আর এ বিষয়টা সম্পর্কে কিছু জানি না।
সাবেক কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের পরিচালক ড. মোহাম্মদ রেজা সেলিম বলেন, আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম তখন কম্পিউটার সেন্টারের দায়িত্ব ছিলো ডিভাইসগুলো লাগিয়ে দেওয়া। বাস্তবায়নের কাজ ছিলো প্রশাসনের। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন ডিভাইসগুলো লাগিয়ে দিয়েছিলাম। আমি যতটুকু জানি ডিভাইসগুলো শুধু সেট আপ করার পর কিছু কিছু জায়গায় ব্যবহারও হয়েছিলো। পরবর্তীতে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরে কি হয়েছে আমার জানা নেই।
বর্তমানে কে বা কারা এই ডিভাইসগুলো খুলে নিলো, কেনইবা এই প্রকল্পটি হঠাৎ থমকে গেলো এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না কেন? এসব প্রশ্ন উঠছে।
জানতে চাইলে কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের পরিচালক ড. রেজওয়ান আহমেদ বলেন, আমি এই প্রজেক্টটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ডিভাইসগুলো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থেকে অকেজো হয়ে গিয়েছিল। নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো খুলে নেওয়া হয়েছে। তৎকালীন সময়ে একটা প্রাইভেট কোম্পানির মাধ্যমে ডিভাইসগুলো সেট আপ করাসহ সবকিছুই করা হয়েছিলো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত না করায় সেটি পরবর্তীতে আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে ডিভাইসগুলো অব্যবহৃতভাবে দীর্ঘদিন পড়ে থেকে ধীরে ধীরে সেগুলো অকেজো হয়ে গেছে। তাই সেগুলো খুলে নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে এটি কম্পিউটার সেন্টারে চালু আছে। এতে করে এখানে কর্মরতদের কাজের সময় সম্পর্কে জানা যায়। কেউ যদি ওভারটাইম করে সেটা সহজেই বুঝা যায়।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, ওই সময় এই ডিভাইসটি পারসিয়ালি কিছু কিছু জায়গায় যদিও ব্যবহার করার কথা শোনা যায়, কিন্তু আলটিমেটলি অনেকেই ব্যবহার করেনি। ব্যবহার না করার ফলে এই জিনিসগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এটা করতে গেলে একদম নতুন করে করতে হবে। এজন্য সব পক্ষের সাথে আলাপ করে করাটা ঠিক হবে। কারণ আগের মতোই যদি এটা ইন্সটলেশন করার পরে কেউ ব্যবহার না করে তাহলে তো আর এটা করে লাভ নাই।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় কথা আমরা সবাইকে অফিস সময়সূচি মেনে চলার জন্য বলেছি এবং সবাই সেভাবে চলছে। ডিভাইস ইনস্টলেশন করে যেটা করার কথা তা আমরা অলরেডি করে ফেলেছি এবং সবাই এ ব্যাপারে সহযোগিতাও করছেন।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন