প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৬ ২২:৩৯
ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ শাবিপ্রবি ছাত্রদলের
জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রদের জোরপূর্বক আবাসিক হল থেকে বের করে দেওয়ায় জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহাগ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপিতে নেতাকর্মীরা জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে অবস্থানরত সচেতন শিক্ষার্থীদের কোনো উসকানি ছাড়াই অযৌক্তিকভাবে কতিপয় দুষ্কৃতকারী শিক্ষার্থী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির, শাবিপ্রবি শাখার কিছু সহযোগী মিলে জোরপূর্বক হল ত্যাগে বাধ্য করে। এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ও উদ্বেগজনক ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশের ওপর মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করা এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র নামধারী কুচক্রীদের যথাযথভাবে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনার কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষা গ্রহণের স্থান নয়, এটি ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তারও প্রতীক। আজ আমরা মাননীয় উপাচার্য বরাবর লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছি, যেন ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনা হয়। আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরে আসবে এবং ক্যাম্পাসে একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ আনা হয়েছে এ ব্যাপারে শাবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, আজকে ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের ব্যাপারে যে অভিযোগ তুলেছে এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ছাত্রশিবিরের নামে মিথ্যাচার। বাংলাদেশের ছাত্রশিবির কখনোই হল দখল, গেস্টরুম কালচারে অভ্যস্ত না। এগুলো আমাদের আদর্শে নাই। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হলগুলোতে ছাত্রলীগের একটি অংশ সক্রিয় ছিল। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে হল ছাড়ার আল্টিমেটাম দেয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সমন্বয়কদের অনুরোধে হল ত্যাগ করতে বলা হয়। সে সময় বর্তমান উপ-উপাচার্যও স্বয়ং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।আমরা এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করার ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে ছাত্রদল আমার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে এবং তারা সোমবারের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে মাননীয় ভিসি মহোদয় আসলে উনাকে আমি জানাবো।
উল্লেখ্য, ২০২৪-এর ২৬ আগস্ট শাবিপ্রবির আবাসিক হলে ছাত্রলীগের দোসর রয়েছে এমন অভিযোগ এনে হল ছাড়তে দফায় দফায় আলটিমেটাম দেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর তোপের মুখে আবাসিক হল ছাড়তে বাধ্য হন শিক্ষার্থীরা। ঐ সময় প্রশাসনিক শূন্যতায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে নতুন প্রশাসন নিয়োগ হলে শিক্ষার্থীদেরকে নতুন করে মেধা ও আর্থিক সংকট বিবেচনায় হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন