প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬ ২২:০৯
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ড. সাকিব
ড. আহমেদ নাজমুস সাকিব। সুনামগঞ্জের সুসন্তান। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জি (DTE Energy)-এর সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগদান করেছেন। এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবদান। বহির্বিশ্বে ড. সাকিবের কর্মদক্ষতা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্ষমতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ছড়িয়েছে।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাকিব যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি লাখো গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ড. সাকিবের যোগদান তাঁর দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।
.jpg)
শাবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগ থেকে একাডেমিক ভিত্তি গড়ে তোলা ড. সাকিব শুরু থেকেই গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অর্জিত জ্ঞান, গবেষণাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছেন।
তার পদায়নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানিখাতে প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ প্রকৌশলীদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ড. আহমেদ নাজমুস সাকিবের এই সাফল্য বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের কাছে এই অর্জন নতুন স্বপ্ন দেখার প্রেরণা। তারা বলছেন, দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যে আন্তর্জাতিক কর্পোরেট ও গবেষণা অঙ্গনে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন ড. সাকিব তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ফারুক আহমদের কনিষ্ঠ পুত্র ড. আহমেদ নাজমুস সাকিব। তার চাচা মরতুজা আহমদ সিভিল সার্ভিসের খ্যাতিমান একজন পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। মাঠ পর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেট থেকে একাধিকবার সচিব ও প্রধান তথ্য কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করে এখন অবসর জীবনযাপন করছেন। আরেক চাচা ড. মুশতাক আহমদ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যপক। পরিবেশ ও পুর কৌশল এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেশে—বিদেশে পরিচিত তিনি।
ড. সাকিবের দাদা মরহুম আজির উদ্দিন আহমদ শিক্ষা বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। দাদি মরহুমা সুফিয়া আখাতার খানম জাতীয়ভাবে রত্নগর্ভা মা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন। সুনামগঞ্জ শহরের হাসননগরের বসবাসকারী আলোকিত এ পরিবারের সদস্যদের মূলবাড়ি ধর্মপাশার চামারদানি গ্রামে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন