শাবিপ্রবিতে খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় শিক্ষার্থীকে মারধর/ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ২২:৫২

আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে হলের হোয়সটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের অভিযুক্ত যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 


শনিবার (১৮ জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থী সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।

 


এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে রাত ৩টার দিকে উপাচার্যে্যর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে রবিবার (১৯ জুলাই) স্কুল অব সোস্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন ২ সদস্য বিশিষ্ট একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

 


জানা যায়, মারধরের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩—২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন— পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১—২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও পরিসংখ্যার বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী খায়রুল খন্দকার বলেন, ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার আমি হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ক্যানটিনের খাবারের বাজে অবস্থা নিয়ে প্রভোস্টকে ‘মেনশন’ দিয়ে অভিযোগ করি। এর পরের দিন ১৭ জুলাই শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারেক ও হাসিবুর আমাকে প্রভোস্টের কাছে ‘সরি’ বলতে বলেন। শনিবার রাতে গেটে খাবার খেতে গেলে হাসিবুর আমাকে ডেকে পাঠান। তখন আমি কেন প্রভোস্টের কাছে সরি বলি নাই, তা জানতে চায় হাসিবুব। আমাকে সে হুমকি দেয়। এ সময় তারেক বলে, “এই ব্যাটা তুই আমারে চিনস? থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দিব।” তখন হাসিবুর ও তারেক আমাকে বেধড়ক মারধর করেন।’ আমি বললাম কিছু বলার থাকলে হল প্রভোস্ট আমাকে বলবে, আপনারা কেন বলবেন। তখন হাসিব আমাকে জোরে বুকে লাথি মারে ও তারেক মাথার পিছনে, মুখে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এরপর আশপাশ মানুষ আসলে কয়েকজন সিনিয়র ভাই ও বন্ধুরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

 


অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান বলেন, হলের গ্রুপে খাবারের বিষয়ে কথা বলায় প্রভোস্ট স্যার একটু মন খারাপ করছেন। তখন আমরা এ নিয়ে খায়রুলকে বুঝাচ্ছিলাম। কিন্ত সে জুনিয়র হয়েও আমাদের সাথে খুব বাজে আচরণ করে। যেটা আমাদের কাছে সিনিয়র হিসেবে খুব খারাপ লাগছে এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে তেড়ে এসে আমার শরীরে তার হাত টাচ করছে। তখন হাসিব বাধা দিতে গিয়ে হাতাহাতি পর্যায়ে চলে গেছে। এতে হাসিবের চশমা ভেঙ্গে গেছে, তার হাত কেটে গেছে, ফোন পুরোটা ভেঙে গেছে।

 


এ বিষয়ে জানতে হাসিবুর রহমানকে কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ বলেন,  এখানে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। কাউকে মারার জন্য মদদও দেইনি, দায়িত্বও দেইনি। হলের সমস্যা নিয়ে কোন শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে আমি আমার রুমে ডেকে তার সাথে কথা বলে সমাধান করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের  সকল শিক্ষার্থী আমার কাছে সমান। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ঘটনার যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার