প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৩৫
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে আগাম রাজনৈতিক তৎপরতা। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য ৫২ জন প্রার্থীর নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে। ব্যানার—ফেস্টুন, শুভেচ্ছা ও দোয়া চেয়ে প্রচারণা, গণসংযোগ এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সেজন্য নির্বাচন ঘোষণার আগেই জমে উঠেছে মাঠের রাজনীতি। নিজেদের পক্ষে ভোট টানতে দাওয়াত, কুলখানি, জানাজা, বিয়ে ও শালিস বৈঠকে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
২০২১ সালে ষষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবারও তৃতীয় ধাপে সুনামগঞ্জ জেলার ১২ উপজেলার ৮৭ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি কিংবা শেষে অর্থাৎ শীতের শুরুতে শান্তিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য ২ জন, পূর্ব বীরগাঁওয়ে ১০ জন, জয়কলসে ১০ জন, পশ্চিম বীরগাঁওয়ে ৬ জন, শিমুলবাঁকে ১১ জন, পূর্ব পাগলায় ৫ জন এবং দরগাপাশা ও পাথারিয়া ইউনিয়নে ৪ জন করে মোট ৮ জন সহ সর্বমোট ৫২ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
ইউনিয়নভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীারা হলেন— পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার ও সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হককে ঘিরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন— বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান—১ রুজেল আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান নূর কালাম, বীরগাঁও দাখিল মাদ্রসার প্রাক্তন প্রিন্সিপাল মাও. জুবায়ের আহমদ, বীরগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাছুম আহমদ জুসেফ, সাবেক চেয়ারম্যান ইমদাদুল হকের ছেলে বাবলু মিয়া, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (বহিস্কৃত) ছলিব নূর বাচ্চু, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. তোফায়েল আহমদ, সমাজকর্মী আবু বকর সিদ্দিক হিরু ও পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মো. শাহার মিয়া, প্রাক্তন মেম্বার ফয়জুল হক।
দরগাপাশা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সুফি মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান রওশন খান সাগর, প্রবাসী আবদুল মালিক মালেক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক জাফর সাদেক লেবুর নাম শোনা যাচ্ছে।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন— উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ—সভাপতি আবু তাহের, পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এবাদুর রহমান এবাদ, বিএনপি নেতা আক্কাস খান ও ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানিয়েছেন, পারিবারিক কারণে তিনি নির্বাচন করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। ২০২১ সালে প্রার্থী ছিলেন রাশিকুল ইসলাম। নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন তিনিও।
পাথারিয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ আমিন, অপর সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা মিয়া ও পাথারিয়ার ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আঙ্গুর মিয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে।
শিমুলবাঁক ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান শাহীন, শিমুলবাক ইউনিয়ন সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবলুছ মিয়া, সমাজকর্মী মানিক মিয়া, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা ফয়জুর রহমান, খেলাফত মজলিস নেতা কবির আহমদ, লুৎফা ইয়াছমিন জুসনা, শিমুলবাঁক ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, বিএনপি নেতা লেবু মিয়া এবং শিমুলবাক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মহিবুর রহমান মানিক সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়াও এই ইউনিয়নে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. জসিম উদ্দিনের নামও চেয়ারম্যাপ প্রার্থী হিসেবে শুনা যাচ্ছে।
জয়কলস ইউনিয়নে প্রার্থীতার তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল বাসিত সুজন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য নূর আলী, জয়কলস ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ইলিয়াছ আলী, উপজেলা বিএনপির সদস্য মহির উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম—সাধারণ সম্পাদক আবুল খয়ের, সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ মিয়া, সমাজকর্মী রাজা মিয়া, হাসান মাহমুদ তারেক, বিএনপি নেতা ফরিদুর রহমান ফরিদ ও জমিয়ত নেতা মাও. ওয়ারিছ উদ্দিন।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জায়গীরদার খোকন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নূর মিয়া, সিলেট মদন মোহন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শিহাব খান, সিলেট মহানগর জমিয়তের সদস্য মাও. আবদুল্লাহ আল নোমান ও জামায়াত নেতা হুজ্জাতুল আমিনের নাম প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।
‘পরিবর্তনের নির্বাচন’ চান ভোটাররা
দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটারদের প্রত্যাশাও বদলেছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা। দলীয় পরিচয়ের চেয়ে সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও জনসেবার মানসিকতাকেই প্রাধান্য দিতে চান তারা।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসমা খানম বলেন, দেশে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা ইউনিয়ন পর্যায় থেকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। এমন একজন চেয়ারম্যান প্রয়োজন, যিনি দলীয় প্রভাবের বাইরে থেকে ইউনিয়নের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন।
প্রবীণ ভোটার আবদুস সোবহান বলেন, এখন অনেকেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই মাঠে থাকেন না। কেউ সমঝোতা করেন, কেউ আবার পরিচিতি বাড়ানোর জন্যই নাম ঘোষণা করেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছ থেকে নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেবে।
সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা জানান, আগামী ১০ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দাবি—আপত্তি গ্রহণ, ২৩ আগস্ট শুনানি এবং ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমই প্রমাণ করে যে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট তফসিল এবং কোন ধাপে সুনামগঞ্জে ভোট হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন