নদীপথে চাঁদাবাজি-অতিরিক্ত ট্যাক্স বন্ধের দাবি সংসদ সদস্যদের

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪

সুনামগঞ্জের নদীপথে অবৈধ চাঁদাবাজি, একই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিকবার ট্যাক্স আদায়, নদীর পাড় কাটা, পলিথিন ব্যবহার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ভার্চুয়াল কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায়। এসব অনিয়ম দ্রুত বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন জেলার সংসদ সদস্যরা।

 


সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সুনামগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

 


সভায় সুনামগঞ্জ—১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল নদীতে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নদীতে অবৈধভাবে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। চাঁদা এক জায়গা থেকে নেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত এর অর্থ জনগণকেই পরিশোধ করতে হয়। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও অনেক আন্দোলন হয়েছে এবং আলোচনা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ—১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি বলেন, আমার এলাকায় যখন এটা হয়, মানুষ মনে করে আমি জড়িত আছি। কারণ এমপি না করলে, তো এটা হতে পারে না। এইজন্যই আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি।
তিনি জানান, নদীপথে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এসপি মহোদয়ের সঙ্গে মনে হয় ১০ বার কথা বলেছি।

 


জবাবে জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) মো. জি কে গউছ এমপি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই সমন্বয় সভা। সভায় জনপ্রতিনিধি ও আমন্ত্রিতদের বক্তব্য থেকে পাওয়া তথ্য জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নোট করছেন। আলোচনার মাধ্যমে এসব অনাচার, অবিচার ও পাপাচার বন্ধ করতে হবে।
জি কে গউছ বলেন, কোনো বিষয়ে প্রশাসনের কাছে মানুষ শরণাপন্ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নদীপথে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে দ্রুত একটি সুন্দর সমাধান প্রয়োজন।

 


তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় যদি কোনো নির্দিষ্ট রেট নির্ধারণ করে থাকে এবং সেটি অযৌক্তিক মনে হয়, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার জন্য প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে ডিও দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সভায় সুনামগঞ্জ—৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন নদীপথে পলিথিন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একাধিক স্থানে ট্যাক্স আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরেন।

 


তিনি প্রশ্ন করেন, বিআইডব্লিউটিএ কোন কোন স্থান থেকে ট্যাক্স আদায়ের ক্ষমতা পেয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো নৌযান যদি নৌবন্দরে অবস্থান করে বা নোঙর করে, তাহলে নির্ধারিত ট্যাক্স দেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক। কিন্তু নদীপথে চলাচলের সময় একই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ট্যাক্স আদায় করা হলে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

 


কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, তাহিরপুর বা অন্য কোনো এলাকা থেকে বালু নিয়ে নৌযান ছাতকের দিকে গেলে ছাতকে ট্যাক্স দিতে হয়। এরপর দোয়ারাবাজারে আবার একই নৌকাকে সুনামগঞ্জে এসেও ট্যাক্স দিতে হয়। এভাবে একই বাল্কহেডকে সাত—আট জায়গায় ট্যাক্স দিতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জি কে গউছ এমপি বলেন, একটি নদীপথে যদি সাত জায়গায় ট্যাক্স দিতে হয়, তাহলে এর খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের ওপরই পড়ে। কারণ পরিবহন ব্যয় বাড়লে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে এর ভুক্তভোগী হন শেষ পর্যন্ত জনগণ।

 


সভায় সুনামগঞ্জ—৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর আহমদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের ভার্চুয়াল কার্যক্রমের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানতে চান, সুনামগঞ্জে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষ থেকে ভার্চুয়াল মিটিং করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো তথ্য রয়েছে কি না।

 


তিনি বলেন, পুলিশের কাছে আগে থেকে তথ্য থাকলে এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য বা ক্লু রয়েছে কি না, তা জানতে চান তিনি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

 


অন্যদিকে সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল নদীর পাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, নদীর পাড় কাটার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 


এ সময় জি কে গউছ এমপি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে রাষ্ট্রের বদনাম হয়। যারা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, যে নেয় তাকে গ্রেপ্তার করেন। দলীয় কর্মী বা প্রশাসনের অন্য কেউ অনিয়ম করলে বিষয়টি আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সামগ্রিকভাবে এসব কর্মকাণ্ডের দায় রাষ্ট্রের ওপরও পড়ে। তাই যেখানে যে অনিয়ম হচ্ছে, তা বন্ধে প্রশাসনের হাতে থাকা সুযোগগুলো কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জনপ্রতিনিধিরা নদীপথে চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ও একাধিকবার ট্যাক্স আদায়, নদীর পাড় কাটা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 


সভায় জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার