প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:২৬
সংগৃহীত ছবি
মস্তিষ্কের রোগ বলতে একসময় শুধু ব্রেন স্ট্রোককেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। তবে বর্তমানে স্ট্রোকের পাশাপাশি মেনিনজাইটিস, ব্রেন টিউমার, ব্রেন ক্যানসার, পারকিনসন ও মৃগী রোগের প্রকোপও বাড়ছে। এসব রোগ যেকোনো বয়সেই হতে পারে, যদিও ৪০ বছরের পর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই রোগগুলোর লক্ষণ, কারণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি।
ব্রেন স্ট্রোক
মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা কোনো রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে তাকে ব্রেন স্ট্রোক বলা হয়। রক্ত সরবরাহ বন্ধ থাকলে অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের কোষ ও স্নায়ু দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।
উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত ক্ষতিকর কোলেস্টেরল, ধূমপান, স্থূলতা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ স্ট্রোকের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কারণ। এছাড়া হৃদ্রোগ, বিশেষ করে আর্টেরিয়াল ফাইব্রিলেশনের মতো সমস্যায়ও মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা থাকে।
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ প্যারালাইজড হয়ে পড়া এবং কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অসংলগ্নভাবে কথা বলার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
ব্রেন ক্যানসার
সব ব্রেন টিউমার ক্যানসার নয়, আবার ব্রেন ক্যানসার মানেই চিকিৎসার বাইরে চলে যাওয়া নয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।
গ্লায়োমা নামে পরিচিত বিশেষ ধরনের ব্রেন টিউমারই ব্রেন ক্যানসার হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মস্তিষ্কের যেকোনো অংশে হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা, খিঁচুনি কিংবা শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিউরোসার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মেনিনজাইটিস
মস্তিষ্ককে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক স্বচ্ছ আবরণকে মেনিনজেস বলা হয়। এটি মস্তিষ্ককে আঘাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহেও ভূমিকা রাখে। এই আবরণে সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে তাকে মেনিনজাইটিস বলা হয়।
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক কিংবা পরজীবীর সংক্রমণে এ রোগ হতে পারে। সংক্রমণ মস্তিষ্কে পৌঁছালে প্রথমেই স্নায়ুকোষ আক্রান্ত হয় এবং দ্রুত কোষের ক্ষতি শুরু হয়।
এর ফলে মাথা ঘোরা, বমিভাব, মাইগ্রেনের মতো মাথাব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে গুরুতর স্নায়বিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
পারকিনসন রোগ
একসময় পারকিনসনকে শুধু বৃদ্ধ বয়সের রোগ মনে করা হলেও এখন তুলনামূলক কম বয়সেও এ রোগ দেখা যাচ্ছে। এর নির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি এবং এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গবেষণা চলছে।
গবেষকদের মতে, পরিবেশদূষণ, খাদ্যে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি এবং বংশগত কারণ পারকিনসনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের নিউরন বা স্নায়ুকোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়। ফলে স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং রোগী শরীরের নড়াচড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেন।
মৃগী রোগ
মৃগী একটি স্নায়ুতন্ত্রের রোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি জিনগত কারণে হয়ে থাকে। তবে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের পরও অনেকের মৃগী রোগ দেখা দিতে পারে। নবজাতক থেকে বয়স্ক—সব বয়সেই বিভিন্ন কারণে এ রোগ হতে পারে।
মস্তিষ্কের গঠনগত বা স্নায়বিক কোনো ত্রুটি থাকলেও মৃগীর ঝুঁকি বাড়ে। মস্তিষ্কে থাকা অসংখ্য সূক্ষ্ম স্নায়বিক সার্কিট শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে। এসব সার্কিটে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক সংকেত বা ‘স্পার্কিং’ তৈরি হলেই খিঁচুনিসহ মৃগী রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।
মৃগী রোগের ধরন ও উপসর্গ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারো ঘন ঘন খিঁচুনি হয়, আবার কারো ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দেখা যায়। রোগের অবস্থা মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকেরা সাধারণত এমআরআই এবং ইইজি পরীক্ষার পরামর্শ দেন। রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হয়।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন