‘শিক্ষকের ঘাটতিতে চ্যাম্পিয়ন সুনামগঞ্জ’

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৩০

ক্যাচমেন্ট এলাকাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার কারণে শিক্ষক সংকটের দ্রুত সমাধান কিছুটা জটিল হলেও সরকার এ নিয়ে কাজ করছে জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, সম্প্রতি সুপারিশপ্রাপ্ত সাড়ে ১৪ হাজার নতুন শিক্ষকের বর্তমানে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের কাজ চলছে। ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন হলেই দুই মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করবেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে শিক্ষক বদলির অনলাইন সিস্টেমটা বন্ধ করে অন্য একটা সিস্টেম চালু করা হয়েছে। অনলাইন বদলি প্রক্রিয়ায় পূর্বের কিছু জটিলতা দূর করার সুবিধার্থে সাময়িকভাবে লোকাল কমিটির মাধ্যমে বদলি পরিচালিত হচ্ছে। এটিকে একটি অস্থায়ী সমাধান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দ্রুতই ত্রুটিমুক্ত ও নতুন অনলাইন বদলি ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হবে।

 


রবিবার সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার (প্রশাসন) জিয়া উদ্দিন আহাম্মদ’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস প্রমুখ।

 


সিলেট বিভাগে শিক্ষকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। আর সিলেট বিভাগের মধ্যে শিক্ষকের ঘাটতিতে চ্যাম্পিয়ন সুনামগঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণের প্রধান কেন্দ্র সুনামগঞ্জ পিটিআই’র অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করতে এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক ও সুযোগ—সুবিধা নিশ্চিত করতে শিগগিরই আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। সুনামগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থা যদি ভালো করতে হয়, সুনামগঞ্জের পিটিআই উন্নতমানের করতেই হবে। ট্রেনিং ছাড়া কোনো টিচার ক্লাসরুমে যেতে পারবে না। 

 


আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিং যেন নেগেটিভ না হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন এমনভাবে দেখা না হয় যে, এখানে শিক্ষার মান ভালো না। আমার প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন এমনভাবে দেখা না হয় যে, সব ভুলত্রুটিপূর্ণ কাজ এখানে হয়। শিক্ষকরা যায় না, ক্লাস করায় না, হেড টিচাররা স্কুলের দিকে নজর দেয় না, অ্যাডমিনিস্ট্রেটররা স্কুলের দিকে নজর দেয় না— এই ধরনের একটা শক্ত নেগেটিভ ব্র্যান্ডিং দেশব্যাপী ছড়িয়ে গেছে।

 


আমরা তো অনেক কিছু দিচ্ছি— ইউনিফর্ম দিচ্ছি, খাদ্য দিচ্ছি। ন্যাশনাল লেভেলে আমরা টেলিভিশন শো থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছুতে নামছি আপনাদের ব্র্যান্ডিং, আমাদের জিপিএস’র ব্র্যান্ডিং চেঞ্জ করার জন্য। আগামী দিনগুলোতে আমরা দেখতে চাই লোকজন জিপিএস দেখবে, গরিব স্কুল—এটা চিন্তা করবে না। চিন্তা করবে, আহ্! ভালো স্কুল। আমাদের জাতীয় স্কুল, আমাদের গৌরবের জায়গা। এগুলো নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আপনাদের জন্য ইন্সট্রাকশনস আসবে। 

 


সুনামগঞ্জের অর্ধেক স্কুলে পাইলট প্রজেক্টে স্কুল ফিডিং চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বড় একটা কাজ সরকার করছে, কিন্তু এটার ব্র্যান্ডিং খুব নেগেটিভ। কোথাও বলছে পচা জিনিস দিচ্ছে, হ্যাঁ— ভুলত্রুটি হয়েছে। বিগত মাসগুলোতে অনেক ভুলত্রুটি বের হয়েছে। এর মধ্যে অনেক চেঞ্জ এনেছি আমরা। আমরা চেঞ্জেস এনেছি কোনো ফ্যাক্টরি বা সাপ্লায়ার সাপ্লাই দিতে পারবে না। ফাস্টর্ অ্যান্ড ফোরমোস্ট, প্রত্যেকটা সাপ্লাই লটে ফুড টেকনিশিয়ান ভাড়া করতে হবে। সার্টিফাইড ফুড টেকনিশিয়ান। ওই ফুড টেকনিশিয়ান প্রত্যেকটা লট ভেরিফাই করবে, তারপর সাপ্লাইতে আসবে।

 


আমাদের এটিও—রা, টিও, ডিপিও—রা ফ্যাক্টরি সারপ্রাইজ ভিজিট দেবে। আপনাদের স্কুলে যেমন সারপ্রাইজ ভিজিট দেওয়ার কথা, সেরকম ফ্যাক্টরিতে সে আনঅ্যানাউন্সড সারপ্রাইজ ভিজিট দেবে— লট চেক করবে, টেস্টিংয়ের জন্য পাঠাবে। একই সাথে আপনাদের ওখানে মাদার্স কমিটি ডেলিভারি নেবে। মানে পাঁচজনের কমিটি— হেডমাস্টার, একজন টিচার ও তিনজন মা থাকবেন কমিটিতে। যারা এগুলো রিসিভ করবেন। যারা ডেলিভারি দেবেন, ওই ডেলিভারি ড্রাইভারের আগে থেকে লাইসেন্স থেকে শুরু করে এনআইডি— সবকিছু স্কুলে থাকতে হবে। যে জায়গাগুলোতে এই নিয়মগুলো মেনে চলা হচ্ছে, সেই জায়গাগুলোতে অলমোস্ট জিরো ত্রুটিতে আমরা চলে এসেছি।

 


প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, যদি খারাপ খাবার আসে, প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিক রিপ্লেসমেন্ট চাইবেন আপনার কমিটির মাধ্যমে। রিপ্লেসমেন্ট সময়মতো না দিতে পারলে, এটা কমপ্লেন আকারে চলে যাবে যে খারাপ খাবার এসেছিল। যদি বারবার পচা খাবার দেয় এটিও (সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা) কে জানাবেন। এটিও পিডির সাথে যোগাযোগ করে অফিশিয়াল টেস্টিংয়ের জন্য পাঠাবেন ল্যাবরেটরিতে। টেস্ট রেজাল্ট আসার সাথে সাথে ওই কনট্রাক্ট বাতিল হবে। যদি এটিও রিপোর্ট না করে, তাইলে সেই এটিও’কে সাসপেন্ড করা হবে। যদি হেডটিচার রিপোর্ট না করে, হেডটিচারকে সাসপেন্ড করা হবে। শিক্ষার্থীদের কাছে খারাপ খাবার যাবে, এটা কোনো মতে মেনে নেওয়া হবে না।

 


এসময় ভিত্তিহীন সংবাদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সঠিক তথ্য দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও এটিও’র মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের সামাজিক পদমর্যাদা, বেতন স্কেল ও সম্মান বৃদ্ধির লক্ষে দ্রুত নতুন শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নীতিমানা হচ্ছে। তবে সম্মানের পাশাপাশি জবাবদিহিতা ও দায়িত্ববোধও বৃদ্ধি পাবে বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

 


প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে খেলার মাঠের ব্যবস্থা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমেই হবে, শেখাবেন আপনারা, পড়াবেন আপনারা, স্কুল দেখবেন আপনারা, বিশেষ করে হেড টিচাররা। খেলার মাঠের ব্যবস্থা কীভাবে হবে, আপনাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচারে কী কী প্রবলেম আছে— সেটা আপনারা রিপোর্ট করবেন— স্পেশালি হাওরের মতো এলাকায়। এছাড়াও হাওর অঞ্চলে বা প্রতিকূল বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এলাকায় আমরা পৃথক পরিকল্পনা করার ব্যবস্থা করতে কাজ করছি। স্কুলের সময় ৯টার পরিবর্তে অন্য সময় দেয়া যায় কিনা অথবা নৌকা স্কুল বা এরকম কিছু ইনোভেশন প্রজেক্ট কিছু জায়গায় কার্যকরী হতে পারে কিনা— সে সম্পর্কে আপনাদের ফিডব্যাক দরকার। আপনারা এটিওর মাধ্যমে এগুলো পাঠান। এগুলো আমরা নির্ণয় করে আগামী দিনগুলোতে কাজ করা শুরু করব। 

 


একই সাথে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং সুনাম রক্ষায় শিক্ষক ও এলাকাবাসীর কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বা সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, আপনার স্কুল থেকে কেউ যেন ফ্যান—লাইট চুরি করে নিয়ে না যায়, সেজন্য শিক্ষকদের স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে সম্পৃক্ততা দরকার। আমি দেখেছি যে স্কুলগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে কার্যকরী, সে স্কুলগুলো কমিউনিটি সম্পৃক্ত করে কার্যকরী হয়েছে।

 


যদি মন্দ কিছু হয় দোষ আমার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল হয়, আমার ভুল মেনে নেবেন। ভালো যা কিছু হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী আমরা প্রত্যেকটা দুয়ারে, প্রত্যেকটা প্রান্তে সঠিক শিক্ষা পৌঁছাবো। গণিত, বাংলা, ইংরেজি সহ সকল বিষয়ে কোনো শিক্ষার্থী যেন পিছিয়ে না থাকে। আমরা সঠিক নাগরিক গড়তে চাই— যার ভেতরে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নাগরিক মূল্যবোধ, পারিবারিক মূল্যবোধ শক্তভাবে আমরা স্কুল সিস্টেম থেকে তৈরি করে বড় করতে পারি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার