বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা: জাতিসংঘ

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১১:০৪

সংগৃহীত ছবি 

বাংলাদেশে সক্রিয় সেল গঠনের মাধ্যমে নিজেদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আল-কায়েদা। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

 

 

নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১০ আগস্ট প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস) একটি বিভক্ত গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়িয়ে থাকা সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সংগঠনটি লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।

 

 

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিজেদের সেল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে দেশটিকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে একিউআইএস। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক দল।

 

 

প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর ভারতের দিল্লির লাল কেল্লার সামনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতেও একিউআইএসের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত (আইএসআইএল) সম্পর্কিত নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে উভয় সংগঠনই রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। তবে এখনো এ ধরনের অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি অতিক্রম করতে পারেনি তারা।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এক চিকিৎসকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে আইএসআইএলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। সংগঠনটির জন্য ‘রাইসিন’ নামের একটি বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরির দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

এ ছাড়া সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও করেছিল আইএসআইএল। এ কাজে সহায়তার জন্য তারা একজন রসায়ন প্রকৌশলীকে অপহরণ করেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

 

দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর ২০২৪ সালে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে পরাজিত হয়ে সিরিয়া ছাড়েন বাশার আল-আসাদ। গৃহযুদ্ধের সময় দেশটির বিশাল একটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল আইএসআইএল।

 

 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইএসআইএল ও এর সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্ষমতা আগের তুলনায় কমেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিক্ষিপ্ত সেল, উগ্রবাদে আগ্রহী ব্যক্তি, অনলাইন নিয়োগ এবং অনুপ্রাণিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগঠনটি এখনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

 

 

প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বরের হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ইহুদিদের হানুক্কা উৎসবে গুলি চালিয়ে ১৬ জনকে হত্যা করা হয়। তদন্তে সন্দেহভাজনদের আইএসআইএলের মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষক দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় সাংগঠনিক কাঠামোর বদলে ছোট সেল, অনলাইন যোগাযোগ এবং আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর মাধ্যমে আল-কায়েদা ও আইএসআইএল তাদের কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
সূত্র: কালবেলা .কম
এমডি

জাতীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার