আবাসন সংকটে সুবিপ্রবি

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০৩

অস্থায়ী ক্যাম্পাসের ভাড়া বাড়ানো ও জায়গা ছেড়ে দেওয়ার চাপে সংকটে পড়েছে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) কার্যক্রম। বর্তমানে ক্লাস, অফিস, শিক্ষার্থীদের হল গেস্ট হাউসসহ আটটি পৃথক স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে ভাড়ায় নেওয়া কয়েকটি স্থানের মালিক ভাড়া বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ জায়গা ছেড়ে দিতে বলেছেন। এতে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের আগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া নিয়ে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

 


শুক্রবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন।
উপাচার্য বলেন, বর্তমানে সুবিপ্রবিতে তিন ব্যাচে মোট ৪৮০ জন শিক্ষার্থী চারটি বিভাগে অধ্যয়ন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, অফিস, শিক্ষার্থীদের হল ও গেস্ট হাউসসহ মোট আটটি অস্থায়ী জায়গায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব জায়গা একত্রে নয়, কিছুটা দূরে দূরে অবস্থিত।

 


তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে প্রাথমিক কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ার কথা, সেগুলো সম্পন্ন হয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে, নতুন দায়িত্বে আসায় তিনি তা বিস্তারিত জানেন না। সবকিছু খোঁজখবর নিয়ে পরে গণমাধ্যমকে জানাবেন।
অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সংকটের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ভাড়ায় নেওয়া জায়গার মালিকদের মধ্যে দুইজনের সঙ্গে ইতোমধ্যে বসে কথা বলেছেন। তাদের একজন ভাড়া বাড়ানোর কথা বলেছেন, অন্যজন জায়গা ছেড়ে দিতে বলেছেন।

 


তিনি বলেন, আমরা জায়গা ছেড়ে দিলে কোথায় যাব? এজন্য বিকল্পভাবে আরও জায়গা বা ভাড়ার ভবন পাওয়া যায় কি না, সে চেষ্টা চলছে।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বাড়বে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। ফলে বর্তমানে যেসব জায়গায় কার্যক্রম চলছে, সেগুলো দিয়ে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণেও কিছুটা সময় লাগবে। তাই স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আরও কিছু জায়গা বা ভাড়ার ভবনের প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য। 

 


সুবিপ্রবির স্থায়ী ক্যাম্পাস শান্তিগঞ্জ ও সদর উপজেলার মধ্যবর্তী এলাকায় হবে, নাকি জেলা সদরে হবে—এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দুই ধরনের মত রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, দুই পক্ষের মানুষই এ বিষয়ে কথা বলেছেন। পরিবেশবাদীরাও বিষয়টি নিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিষয় নয় জানিয়ে উপাচার্য বলেন, আমি এসেছি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার জন্য। সরকার যেখানে দেবে, সেখানেই আমরা কাজ করার চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উদ্যোগ নিলে এবং সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলে সরকার তাদের কথা শুনতে পারে। তবে সরকার যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত দেবে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেখানেই কাজ করবে।

 


জমি অধিগ্রহণের কাজ কতদূর এগিয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, তার ধারণা অনুযায়ী বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) পর্যন্ত গেছে। তবে ইউজিসির পর প্রক্রিয়াটি কোন কোন ধাপ অতিক্রম করবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত জানেন না বলে জানান। মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট আরও কিছু ধাপ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন।

 


উপাচার্য বলেন, তিনি নতুন দায়িত্বে এসেছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস, জমি অধিগ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সবকিছু জানার পর পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত অবহিত করবেন।

 


তবে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য অপেক্ষার পাশাপাশি অস্থায়ী ক্যাম্পাসের ভাড়া ও জায়গা সংকট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নতুন চাপ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সংকট আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার