খোঁজ পাওয়ার আশায় আছে পরিবার

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৫৬

শান্তিগঞ্জের ছয় তরুণ ভূমধ্যসাগরের নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ আছে এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অন্য একজন মিসরের সাইদ পোর্ট পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে সুনামগঞ্জের কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস। ওই পোর্ট পুলিশের কাছে সুনামগঞ্জের আব্দুল করিমসহ ১৫ জন বাংলাদেশি তরুণ আছে এটাও জানা গেছে। অভিবাসন প্রত্যাশীরা ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে গেছে, কার মাধ্যমে গেছে এই তথ্য জানতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবকে দায়িত্ব দিয়েছে প্রশাসন। অবশ্য একই এলাকার অভিবাসন প্রত্যাশী হওয়ায় দালালও সকলের একজনই হবে, এটি ধারণা করছে স্থানীয় প্রশাসন। 

 


শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বুধবার অভিবাসন প্রত্যাশীদের গ্রামে গ্রামে লোক লোক পাঠানো হয়। তারা সরেজমিনে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন সাগর পথে গ্রীসে যাবার সময় ছয় জন নিখেঁাজ হয়েছেন। এরা হলেন— উপজেলার পশ্চিম পাগলার শত্রুমর্দন গ্রামের হৃদয় পাল, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি গ্রামের এনাম উদ্দিন, রিপন মিয়া ও মামুন খান, রনসি গ্রামের সাব্বির হোসেন তালহা, জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া গ্রামের সোহেল মিয়া। এদের সকলের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এছাড়া পাথারিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল করিম নামের এক যুবক মিসরের পুলিশের তত্বাবধানে সাইদ পোর্টে রয়েছেন বলে জানা গেছে। 
রনসি গ্রামের ইসলাম উদ্দিন জানালেন, তিন আগস্ট তার ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। গেইম হবার কথা ওইদিন জানিয়েছিল সে। এরপর আর যোগাযোগ নাই। বললেন, ‘এখন আবার ছেলের মুখ থেকে শোনার অপেক্ষায় আছি। সরকারের কাছে আবেদন, আমার ছেলেটাকে যেন উদ্ধার করে দেওয়া হয়।’ ইসলাম উদ্দিন মনে করেন, তাঁর ছেলে জীবিতই আছে। কার মাধ্যমে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন এই তথ্য বলতে চান না ইসলাম উদ্দিন। 

 


গ্রামের অন্য একজন নাম পরিচয় না লেখার অনুরোধ জানিয়ে বললেন, ‘শুনেছি দালালরা আশ^াস দিয়েছে, ছেলে বিদেশ না যেতে পারলে টাকা ফেরৎ দেবে। এখন ওদের নাম বললে, টাকা পেতে সমস্যা হবে।’

 


শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বললেন, অভিবাসন প্রত্যাশীদের পরিবারে শোকাবহ অবস্থা। তিনটি পরিবারে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে সাগর পথে লিবিয়া হয়ে গ্রীসে যাবার চুক্তি করেছিল তারা (অভিবাসন প্রত্যাশীরা)। একই গ্রামের তিনজন একসঙ্গে থাকায় এটি বুঝা গেছে দালালও একই ব্যক্তি হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবকে দালালের খেঁাজ নেবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও।

 


জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী সচিব নাজমুস সাকিব বললেন,‘সুনামগঞ্জের পাথারিয়ার আব্দুল করিমের মাধ্যমেই এখনো পর্যন্ত তারা কিংবা দূতাবাস তথ্য পেয়েছেন। যারা নিখেঁাজ হয়েছে তারা মারা গেছেন এটা বলা কঠিন মন্তব্য করে এই কর্মকর্তা বলেন, জীবিত ১৫ জন মিসরের সাইদ পোর্টে আছেন এটি জানা গেছে। মারা গেছেন ১১ জন এটুকু গণমাধ্যম যেভাবে জেনেছে, আমরাও সেভাবে জেনেছি।

 


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান বললেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের দেওয়া তথ্য উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে জানানো হচ্ছে। দূতাবাস থেকে এখনো তাদেরকে কিছুই জানানো হয় নি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার