ধরার মধ্যে অধরা দালালরা

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৫৩

শান্তিগঞ্জের অভিবাসন প্রত্যাশী তরুণদের সাগরপথে গ্রীসে পাঠাতে মধ্যস্থতাকারীরা (দালাল) বহাল তবিয়তে ঘুরছে। কেউ কেউ মুঠোফোন খোলা রাখলেও প্রকাশ্যে বের হচ্ছে না। এরমধ্যে ওই উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামের কদ্দুছ মিয়া ও খসরু’র নাম প্রকাশ্যে বলা শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। 

 


ডুংরিয়ার কদ্দুছ মিয়া ও খসরু মিয়া এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকারও করেছেন তারা কাকে কাকে গ্রীস পাঠানোর ‘কন্ট্রাক্ট’ করে দিয়েছেন। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কেউ এখনো এদের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে নি। ডুংরিয়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বলেছেন, কদ্দুছ মিয়া ও খসরু মিয়া, এক সময় কৃষি কাজ করতো, এখন শুনি তারা বিদেশ মানুষ পাঠায়। হঠাৎ করে তারা ধনাঢ্য বনে গেছে।


অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে নিখেঁাজ কয়েকজন পরিচয় উল্লেখ না করার অনুরোধ করে গেল সোমবারই জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা ডুংরিয়ার কদ্দুছ মিয়ার মাধ্যমে লিবিয়ার দালাল ধরেছে।

 


তথ্যের সত্যতা জানতে সরেজমিনে যাওয়া। শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ডুংরিয়া পেঁৗছাতে গ্রামের পাশেই বাজার পাওয়া যায়। বাজার থেকে সামনে এগুলেই রয়েছে ধানকল (রাইস মিল)। সোজা বিপরীত দিকের ৫০০ গজ এগুলেই কদ্দুছ মিয়ার বাড়ি। কদ্দুছ মিয়ার খেঁাজ নেবার আগেই কয়েকজন বললেন, আপনারা কোথায় যাবেন, কদ্দুছ মিয়ার বাড়িতে বলার পর এরা জানালেন, কদ্দুছ মিয়া বাড়িতে নেই। পরে অনেক কৌশল করে পাশের সড়কে দেখা পাওয়া যায় কদ্দুছ মিয়ার। কথা বলার চেষ্টা করলে, লোকজন জড়ো হয়ে যায়। জড়ো হওয়া লোকজনের বেশির ভাগেই কদ্দুছ মিয়ার আত্মীয়। সড়কে কথা বলতে রাজি হলেন না কদ্দুছ মিয়া। নিয়ে গেলেন তার একটি ছাড়া বাড়িতে (খালি বাড়ি)। ভাঙাছোড়া টিনসেড ঘর। আলো ঢুকে না বাড়িতে। বাতিও নেই। কথা বার্তার এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন পাগলার শত্রুমর্দনের রন্টু পালের ছেলে হৃদয় পাল এবং ডুংরিয়া গ্রামের উত্তরপাড়ার ইছন মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়াকে পাঠাতে টাকা লেনদেন হয়েছে তার মাধ্যমে।
বুধবার এই বিষয়ে শত্রুমর্দনের রন্টু পালকে জিজ্ঞেস করলে, তিনিও স্বীকার করেন কদ্দুছ মিয়ার সঙ্গে তাঁর ছেলের ১৪ লাখ টাকায় কন্ট্রাক্ট হয়। ছেলে হৃদয় পাল লিবিয়ায় পেঁৗছার পর ডুংরিয়া বাজারে গিয়ে তিনি ছয় লাখ টাকা তাকে (কদ্দুছ মিয়াকে) দিয়ে আসেন। বাকী সাত লাখ শান্তিগঞ্জের একজন দোকানীর কাছে জমা রয়েছে। 

 


মঙ্গলবার রাতে কদ্দুছ মিয়া তাঁকে (রন্টু পালকে) জানিয়েছেন, দুশ্চিন্তা না করার জন্য তাঁর ছেলে হৃদয় মিসরের ‘সাইদ পোর্ট’এ আছে। তিনি জানান, কদ্দুছ মিয়াকে বলেছেন, তাঁর ছেলেকে ভিডিও কলে দেখাতে হবে।

 


অন্যদিকে শান্তিগঞ্জের পাথারিয়ার আব্দুল করিমকে (যে তরুণের উধৃতি দিয়ে সরকারের নানা মাধ্যম অভিবাসন প্রত্যাশী নিখেঁাজদের তথ্য দিয়েছে) গ্রীসে পাঠানোর জন্য মধ্যস্থতা করেছেন ডুংরিয়ার মাসুক মিয়ার ছেলে খসরু মিয়া। খসরু মিয়াও বুধবার এই প্রতিবেদকের কাছে আব্দুল করিমকে পাঠানোর মধ্যস্ততার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি তো জোর করে পাঠাইছি না। যারা গেছে মরণ জাইন্না গেছে। আমি তো কদ্দুছ মিয়ার মতো সরাসরি কাজ করি না। বেশি বেশিও করি না। আরও মাইনসে (মানুষে) ই—কাম করে। একজন পাঠাইলে আমি মাত্র ১০ হাজার টাকা পাই।’

 


শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সাগর পথে তরুণদের বিদেশ পাঠানোর দালাল খুঁজলেও কদ্দুছ ও খসরুদের তথ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বললেন, কেউ এসব তথ্য জানায় নি। আমরা দ্রুতই এই বিষয়ে খেঁাজ নেব।

 


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বললেন, দালালদের কোন তথ্য এখনো পুলিশকে কেউ জানায় নি।
প্রসঙ্গত, গেল ৩ আগস্ট সাগর পথে লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে একটি রাবার বোট (নৌকা) গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি এবং চারজন সুদানের নাগরিক। বোটটি স্পিডবোট ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত হলেও এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না, একারণে এটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। সমুদ্রের মাঝপথে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। অনাহার, প্রচণ্ড সূর্যে্যর তাপ ও চরম পানিশূন্যতায় টানা ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার সময় অন্তত ১১ জন মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি ও ২ জন সুদানির মরদেহ বাধ্য হয়ে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট স্রোতের টানে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ৩০ জনের মধ্যে মারাত্মক অসুস্থদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে তাদের অনেকের শরীরে পচন ধরেছে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত একজনের একটি ভিডিও বার্তায় এই তথ্য জানা যায়। মিসরে থাকা জীবিতরা এখন পুলিশের তত্ত্বাবধানে আছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার