পারিবারিক কলহ ও শিশু হত্যা ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতা জরুরি

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪৫

পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে শিশুদের প্রতি নৃশংসতার দুইটি ঘটনা সম্প্রতি সামনে এসেছে। একটি ঘটনায় দুই শিশুকে হাওরে ফেলে হত্যা করা হয়, অন্য ঘটনায় সাত বছরের এক শিশুকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের নৃশংসতা প্রতিরোধে ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’—এর নিয়মিত বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় শুক্রবার কথা বলেছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. রতন সেখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্টাফ রিপোর্টার জাকারিয়া আহমদ। সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিচে তুলে ধরা হলো।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শুরুতেই আপনার কাছে জানতে চাই, পরপর এমন দুইটি ঘটনায় পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে পরিবার ও আশপাশের মানুষের কী ধরনের সতর্কতা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন?
ওসি মো. রতন সেখ: ধন্যবাদ আপনাকে। আমাকে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’ কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানাই। আমার কথাগুলো যেন মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং সবাই এ বিষয়ে সচেতন হন, সেটাই আমার প্রত্যাশা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুইটি মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি শুরু থেকেই যুক্ত ছিলাম। একটি ঘটনায় একজন বাবা তার দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে দিয়েছেন। অন্য ঘটনায় আমাদের থানা এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 
সাত বছরের শিশুটির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু মামলাটি এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে, তাই এ মুহূর্তে ঘটনার বিস্তারিত বলতে চাই না। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে দুই শিশুকে হাওরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় প্রথমে তাদের বাবা সন্তান হারিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরপর দুইদিন দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় এবং তদন্তে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসে।

 


দুইটি ঘটনাই অত্যন্ত ভয়ংকর ও নৃশংস। পারিবারিক কলহ বা স্বামী—স্ত্রীর বিরোধের কারণে শিশুদের ওপর এমন নৃশংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সাত বছরের শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের সময় শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে হত্যার পর পানিতে ফেলা হয়েছিল, নাকি জীবিত অবস্থায় পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল — তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ ধরনের ঘটনা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়। আমি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানাব — যেসব পরিবারে স্বামী—স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত কলহ চলছে, কিংবা সৎমায়ের কাছে কোনো শিশু বড় হচ্ছে, সেসব পরিবারের শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশপাশের মানুষকে খোঁজখবর রাখতে হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, গ্রাম পুলিশ এবং স্থানীয়দের এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার চিহ্নিত করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না হলে পুলিশকে জানাতে হবে। আমরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এনজিওকর্মী, মসজিদের ইমাম, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ কাজে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। জুমার নামাজের সময় মসজিদের ইমামরা পারিবারিক সমস্যা, শিশুদের নিরাপত্তা ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বক্তব্য দিতে পারেন। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শিশুদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে কী ধরনের উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব?
ওসি মো. রতন সেখ: এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রথমে মসজিদের ইমাম, গ্রাম পুলিশ, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যানদের সম্পৃক্ত করতে হবে। স্থানীয়ভাবে যারা বিচার—সালিশ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো এলাকায় যদি দেখা যায় কোনো পরিবারে শিশুরা অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে, সৎমায়ের কাছে শিশু বড় হচ্ছে কিংবা স্বামী—স্ত্রীর মধ্যে প্রতিনিয়ত তীব্র ঝগড়া—বিবাদ হচ্ছে— তাহলে বিষয়টি দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। প্রথমে স্থানীয় ইউপি সদস্যরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। মসজিদের ইমাম, গ্রাম পুলিশ ও এনজিওকর্মীদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া যেতে পারে। এরপর চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ডেকে কথা বলা যেতে পারে। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে পুলিশকে জানাতে হবে। আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। পুলিশ, প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতাই শিশুদের প্রতি এ ধরনের নৃশংসতা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। শিশুদের প্রতি নৃশংসতা এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার