খানাখন্দে ভরা সড়কপথ

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৫১

জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ

জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে জেলা সদর পর্যন্ত প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। কয়েক দফা বন্যা ও ভারী বর্ষণে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কের ওপরের অংশ ভেঙে গিয়ে পুরো পথই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জামালগঞ্জ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। জামালগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম সড়ক এটি। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষ এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশায় স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোনটি ছোট আর কোনটি বড়, তা বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। 

 

 

 

 

 


শুক্রবার সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও টেকসই সংস্কারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রব্বানী আফিন্দী নামে একজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাম্প্রতিক কয়েকটি বন্যা ও ভারী বর্ষণে জামালগঞ্জ—সুনামগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অনেক অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যানবাহনের স্বাভাবিক গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের সময় ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গর্ভবতী নারী, গুরুতর অসুস্থ রোগী ও দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের। জামালগঞ্জ থেকে জরুরি রোগীদের দ্রুত সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন হলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে রোগীদের শারীরিক কষ্টও বেড়ে যাচ্ছে।

 


সড়কের দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা—বাণিজ্যেও। উপজেলার কৃষিপণ্য, ধান, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য জেলা সদরে পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও খরচ লাগছে। গর্ত এড়িয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করায় অনেক সময় যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, হাওরবেষ্টিত ও যোগাযোগের দিক থেকে পিছিয়ে থাকা জামালগঞ্জ উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকাংশেই সড়ক যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল। ভালো যোগাযোগব্যবস্থা শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা—বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সড়কের সংস্কার শুধু জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয় নয়, পুরো উপজেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার জন্যও জরুরি।

 


স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রব্বানী আফিন্দী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কার্যকর ও টেকসই সংস্কার কাজ এখনও দৃশ্যমান হয়নি। প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে সড়কটি দ্রুত নষ্ট না হয়, সে জন্য টেকসই ও মানসম্মত সংস্কার প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত কাজ শুরুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, জামালগঞ্জ—সুনামগঞ্জের ১১ কিলোমিটার সড়ক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য ঢাকায় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হবে।

 


সুনামগঞ্জ —১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, সম্প্রতি জামালগঞ্জ — ধর্মপাশা উড়াল সেতু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত উড়াল সেতু নির্মাণকাজ শুরু হবে। সেই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জামালগঞ্জ—সুনামগঞ্জ সদর রাস্তা সহ আভ্যন্তরিক রাস্তাঘাটের দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার