প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৫৩
সুনামগঞ্জের ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত
সাগর পথে গ্রীসে যাবার পথে বিপন্ন ৪২ বাংলাদেশীর একজন শান্তিগঞ্জের হৃদয় পাল। তার পাসপার্ট গেইম বোটে মিলিছে এমন তথ্য কিছু অনলাইন গণমাধ্যম শুক্রবার প্রকাশ করেছে। এরপর থেকে হৃদয় পালের পরিবারের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেছে। হৃদয়ের বাবা রন্টু পাল বললেন,‘ইশ^র যেন আমার ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখেন, নেটে তার পাসপোর্ট পাওয়া গেছে খবরে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে ভাই।’ এদিকে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশীদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে এমন খবরও প্রকাশ হয়েছে।
মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে উদ্ধার হওয়া ২৯ বাংলাদেশির মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন রয়েছেন। তারা সুস্থ হয়ে বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আরও দুই বাংলাদেশি মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সুনামগঞ্জের শনাক্ত হওয়া ১২ জন হলেন— তায়েবুর রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, মো. লোহানী আহমেদ, বদর উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মো. হোসাইন আহমেদ, আলিম উদ্দিন, সাব্বির হোসেন তালহা, এনাম উদ্দিন, আবু সাঈদ এয়াহিয়া, আব্দুল করিম ও মো. মামুন খান। তাদের মধ্যে আব্দুল করিম জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের একজন।
এদিকে, গেইমবোটে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া তিনটি পাসপোর্টের মধ্যে একটি সুনামগঞ্জের হৃদয় পালের। হৃদয় পাল সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের রন্টু পালের ছেলে।
রন্টু পাল শুক্রবার বিকেলে এই প্রতিবেদককে বললেন, মধ্যস্থতাকারীরা (দালালরা) জানাচ্ছে, ছেলে জীবিত আছে। মিসরে আছে। সে অসুস্থ একটু দৈর্য্য ধর। আমি বলেছি, আমার ছেলেকে ভিডিও কলে দেখানোর ব্যবস্থা কর। তারা সেটি করছে না। আজকে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে দেখলাম ছেলের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে, একারণে আরও বেশি চিন্তায় পড়েছি।
এদিকে, মিশরের সমুদ্র উপকূলে থাকা বোটে বাংলাদেশের অভিবাসন প্রত্যাশী তরুণ শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহ্’র জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মো. হাবিব উল্লাহ্ ও নুর আলমের পাসপোর্টও পাওয়া গেছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইনে প্রচার হয়েছে।
মিসরের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, সাগরে নিখোঁজ নয় বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করতে জীবিত উদ্ধার হওয়া সহযাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া জরুরি।
দূতাবাসের ফাস্টর্ সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং নিখোঁজ বাংলাদেশিদের নাম—পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে আটক বাংলাদেশিদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে বাংলাদেশিসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসমান থাকার পর ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। পরে অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও নয় বাংলাদেশি সাগরে মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের আব্দুল করিম।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন