প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:৩২
সিলেট শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান
সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় মিলনায়তনে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের সাথে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬—এর ফলাফল পর্যালোচনা, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা।
সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শহীদ উল আলম বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফল অবনতির প্রধান দুইটি কারণ হলো ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা। তিনি বলেন, এই দুই বিষয়ে যদি আমরা ভালো করতে পারতাম, তাহলে সামগ্রিক ফলাফল অনেক উপরে চলে যেত।
(1).jpg)
তিনি আরও জানান, ইংরেজি একটি বিদেশি ভাষা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে ভীতি কাজ করে, আর গণিতকে কঠিন ভাবার মানসিকতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
চেয়ারম্যান শহর ও গ্রামের শিক্ষার মানের বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহরের বিদ্যালয়গুলোতে দক্ষ ইংরেজি ও গণিত শিক্ষক পাওয়া গেলেও প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
সমাধান হিসেবে তিনি প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, দক্ষ শিক্ষকদের ক্লাস ভিডিও আকারে ধারণ করে মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রান্তিক বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা গেলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তিকেও ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
ফলাফলকে ‘বিপর্যয়’ বলার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে চেয়ারম্যান বলেন, আমরা শিক্ষা বোর্ড এটাকে বিপর্যয় বলছি না। এবার শিক্ষার্থীরা যেভাবে পরীক্ষা দিয়েছে, সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয়ে তাই পেয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এবার সিলেট বোর্ডে জিপিএ—৫ প্রাপ্তির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে, যা প্রমাণ করে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলই করেছে।
একটি বিদ্যালয়ের ফলাফল ৯২ থেকে ৪২—এ নেমে আসার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, আগে হয়তো অবৈধ সুবিধার মাধ্যমে পাস করা সম্ভব হতো, এবার সেই সুযোগ না থাকায় প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে।
চেয়ারম্যান স্মরণ করিয়ে দেন, পরীক্ষার ফলাফল কেবল পাস—ফেলের সংখ্যা নয়। এর পেছনে থাকে শিক্ষার্থীর পরিশ্রম, শিক্ষকের পাঠদান, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অভিভাবকের ভূমিকা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা। তাই শুধু শিক্ষার্থীকে দায়ী না করে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. দিদার চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক ড. মো. আবদুল কাদির, উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. আবদুল ওয়াদুদ, বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন