অবশেষে খোকনকে সভাপতি প্রার্থী থেকে সরালো বিএনপি

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:১৮

পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন।। জেলা বিএনপির নিষেধ অমান্য করে প্রার্থী

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির লিখিত নির্দেশনা ছিল— ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়করা পরবর্তী সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। অথচ সেই নির্দেশনার পরও ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব মোর্শেদ খোকন সভাপতি পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। শুধু ফরম সংগ্রহই নয়, যাচাই—বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠে। শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কের অবসান ঘটাতে হস্তক্ষেপ করতে হয় জেলা বিএনপিকে। জেলা কমিটির নির্দেশনার পর গত সোমবার জরুরি সভা করে খোকনকে সভাপতি পদে প্রার্থিতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপি।

 


তবে এখানেই শেষ নয়। একই সভায় সভাপতি পদে অপর প্রার্থী আলেফর খানকেও প্রার্থিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা ও বিএনপি বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে আলেফরের ব্যাপারে এ সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও ৫ সেপ্টেম্বর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দুই প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

 


গত বছরের ১৫ মার্চ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লিখিত নিয়মাবলী প্রকাশ করে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির আহবায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হক স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ইউনিয়ন আহবায়করা পরবর্তী সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এরপর গত বছরের ২০ জুলাই মাহাবুব মোর্শেদ খোকনকে আহবায়ক করে পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় উপজেলা বিএনপি। প্রশ্নের সূত্রপাত সেখানেই। কারণ আহবায়ক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই একই কমিটির সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তিনি কীভাবে পেলেন— এ নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।

 


ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর ভাষ্য, ধর্মপাশা উপজেলার অন্য তিনটি ইউনিয়নের সম্মেলনে জেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে। কোনো ইউনিয়ন আহবায়ক সভাপতি পদে প্রার্থী হননি। তাহলে পাইকুরাটিতে ব্যতিক্রম কেন?— এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠে। তখন বিষয়টি জেলা বিএনপির নজরে আসে। এরপর খোকনের প্রার্থিতা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত শুক্রবার রাতে ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপিকে লিখিত নির্দেশনা দেয় জেলা কমিটি। জেলা বিএনপির ওই নির্দেশনার পর গত সোমবার উপজেলা বিএনপির জরুরি সভায় খোকনের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সভাপতি প্রার্থী হারুন অর রশিদ সরকার বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কমিটির নির্দেশনা মেনে এর কোনোটিতেই কোনো আহবায়ক সভাপতি প্রার্থী হননি। শুধু পাইকুরাটি ইউনিয়নের ক্ষেত্রে কেন এমনটি করা হলো— এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়? তবে শেষ পর্যন্ত খোকনের প্রার্থিতা বাতিল করায় জেলা ও উপজেলা বিএনপিকে ধন্যবাদ।’

 


পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মাহাবুব মোর্শেদ খোকনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ ও প্রার্থিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরেক সভাপতি প্রার্থী আলেফর খান বলেন, ‘আমি কখনও আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আমাকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি আমার বিরুদ্ধে এক প্রকার ষড়যন্ত্র।’

 


ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির নির্দেশনা মোতাবেক মাহাবুব মোর্শেদ খোকনের ও আলেফর খানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। আলেফরের বিরুদ্ধে দল বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।’

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার