প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:১৩
সংগৃহীত ছবি
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, জীবনদক্ষতা ও বাস্তবজ্ঞান বাড়াতে কারিকুলামে বছরজুড়ে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিমকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে হেইলিবেরি ভালুকা ও কেমব্রিজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেফগার্ডিং লিডারশিপ সামিটে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জন করবে না; বরং কীভাবে নিরাপদ থাকতে হয়, কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে জীবন পরিচালনা করতে হয় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সামলাতে হয়, সেসব বাস্তব জীবনদক্ষতাও শিখবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন অনুযায়ী এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবে এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে শিখবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জীবনদক্ষতা শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘নতুন করে কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে। সেখানে ১২ মাসে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিম নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট একটি মাসে যে থিমকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, সংশ্লিষ্ট মাসের বিভিন্ন বিষয়ের পাঠেও সেই থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদাহরণ, সংখ্যা, প্রশ্ন ও আলোচনা যুক্ত করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাঠের সঙ্গে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বিষয়কে সহজে মিলিয়ে নিতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো মাসে যদি অগ্নিনিরাপত্তা থিম হিসেবে নির্ধারিত হয়, তাহলে গণিত, ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের পাঠেও অগ্নিনিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট উদাহরণ ও আলোচনা যুক্ত করা যেতে পারে।’
একইভাবে সড়ক নিরাপত্তা, পানিতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, দুর্যোগ মোকাবিলাসহ শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে গুরুত্ব পাবে বলেও তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের সব ধরনের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সরকার নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে নির্ধারিত মানের চেয়ে ভালো ব্যবস্থা করেছে, তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে আমরা সরকারের নীতিমালা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষার জন্য একটি অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: কালবেলা .কম
এমডি
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন