প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:২৬
সংগৃহীত ছবি
দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ‘উদ্যোগ’ নামে নতুন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কর্মসূচির আওতায় সম্ভাবনাময় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে এ কর্মসূচির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। দেশের অন্যান্য জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলার উদ্যোক্তারা ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি-উদ্যোগ’-এর বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নীতিমালাটি পাঠানো হয়েছে।
আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র দিতে হবে—
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি;
সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি;
দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ, যদি থাকে;
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র।
আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।
যেভাবে আবেদন করবেন
সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দেওয়া যাবে। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকেই হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
উদ্যোক্তা খোঁজা ও আবেদন গ্রহণের দায়িত্ব থাকবে তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর ওপর। প্রতিটি উপজেলায় তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর মধ্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে। উপজেলা পর্যায়ের আবেদন লিড ব্যাংকের মাধ্যমে এবং জেলার আবেদন জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে নির্বাচিত একজন উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যেক উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন না। ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন, সম্ভাব্যতা ও প্রস্তাবিত ব্যয় মূল্যায়ন করে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণ ও অনুদানের অনুপাত হবে ৫০:৫০। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন।
তবে নির্বাচিত হলেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে। কোনো উদ্যোক্তার ঋণের আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে এর কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
মিলবে প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক সহায়তা
কর্মসূচির আওতায় শুধু অর্থায়ন নয়, উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায়ও সহায়তা দেওয়া হবে। প্রত্যেক আবেদনকারীকে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
নির্বাচিত উদ্যোক্তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি এবং বাজারসংযোগের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
এ কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো ধরনের তদবির করা যাবে না। তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই, সিআইবি ও লেনদেন তদারকির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন