প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩২
বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির জেলা শাখার উদ্যোগে ৭ দফা দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায় দুই লাখ দলিল লেখকের পেশাগত অধিকার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানানো হয়।
শনিবার বেলা ১১টায় সাব—রেজিস্ট্রার অফিস প্রাঙ্গণে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল নিতাই। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শাহাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি বজলুর রশিদ চৌধুরী। এ সময় সহসভাপতি শেখল ইসলাম ও নেজামুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হুদা, অর্থ সম্পাদক শহীদ সবওয়াত চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবুল্লা মিয়াসহ সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত ছিলেন ছাতক উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কাজী আনোয়ার মিঠা, দোয়ারাবাজার উপজেলা সভাপতি আব্দুল হান্নান, জামালগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো. আলমগীর, জগন্নাথপুর উপজেলা সভাপতি বশির আহমদ, দিরাই উপজেলা প্রতিনিধি আবুল মতিন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সুরুজামান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাত্তারুল ইসলাম শায়েস্তা ও সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে প্রদীপ পাল নিতাই বলেন, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির প্রায় দুই লাখ দলিল লেখক দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সম্পত্তি নিবন্ধনসংক্রান্ত সেবামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, এ খাত থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার উদ্যোগের বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন। পরে ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়—সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পারেন। এতে দলিল লেখকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সমাবেশে সাতদফা দাবির জানানো হয়। এগুলো হল— দলিল রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না। দলিল প্রতি সম্মানী ভাতা ন্যূনতম ৫—হাজার টাকা বাস্তবায়ন করতে হবে। লাইসেন্স প্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতিত অন্য কেহ দলিল মুসাবিদা করতে পারবে না ও দলিল রেজিষ্ট্রী করার জন্য দাখিল দিতে পারবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারী করতে হবে। থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ব্যতিত অনভিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারী করতে হবে। থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারী খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দিতে হবে। যেহেতু পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজ পত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয়, সেহেতু দলিল লেখকদের পেশাগত কারনে দলিল লেখা/মুসাবিদা কারক হিসাবে দলিল লেখকদের আসামী করা যাবে না। দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দিতে হবে।
সমাবেশে দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, আধুনিকায়নের নামে যেন প্রায় দুই লাখ দলিল লেখক পেশাচ্যুত হয়ে পরিবার—পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়েন, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন