প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৭
বাংলাদেশে আল্লাহর আইন চাওয়ার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী অগ্রগামী রাজনৈতিক দল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর আইন ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। যে সকল ইসলামী দল আল্লাহর আইন চায়, সেগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অগ্রগামী। সবসময় মানুষের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদা দিতে হবে। মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলাই হচ্ছে কৌশল। সংগঠনের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করতে হবে।’
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীর মদিনামার্কেট এলাকার একটি মিলনায়তনে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘রুকন’ (সদস্য) শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দলীয় দায়িত্বশীলদের আগমীতে প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের আলোকে এগিয়ে থাকার তাগাদা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াতের দায়িত্বশীলদের মানবিক গুণ ও উন্নত নৈতিক মানে সেরা হতে হবে। এর আলোকে সর্বস্তরের জনশক্তিকে গড়ে তুলতে হবে। সংগঠনের প্রতিটি পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের সুখ—দুঃখ ও প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। আগমীতে প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের আলোকে এগিয়ে থাকতে হবে। আগামী দিনের দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ অর্থোপার্জনের চিন্তাও যেন হৃদয়ে লালিত না হয়। ব্যবসা—বাণিজ্য ও যাবতীয় লেনদেনে স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে হবে। হারাম থেকে মুক্ত থাকতে হবে। একই সঙ্গে মা—বাবার সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। মমতাময়ী মাকে সম্মান দিতে গিয়ে স্ত্রী, শ্বশুর—শাশুড়িকে অপমান করা যাবে না। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।’
সন্তানদের প্রতি কোমল ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। মানুষের সুখ—দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের প্রয়োজনকে নিজেদের প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হতে হবে। এভাবেই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে।’
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শাকুর ও মাওলানা আব্দুল মুকিত বক্তব্য দেন। শিক্ষাশিবিরে মহানগরীর রুকনরা অংশ নেন।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন