ভবন-জনবল নিয়ে চলছে দোলাচল

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০০

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল কবে চালু হবে, এই অনিশ্চয়তা এখনো কাটে নি। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাসপাতালের ভবনই সমঝে নেয়নি কতৃর্পক্ষ। হাসপাতালের নবনিযুক্ত উপ—পরিচালক মনে করছেন, আগে ভবন সমঝে নেওয়া লাগবে, পরে অন্যান্য কার্যক্রম। আবার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক চান আগে জনবল নিয়োগ হোক। বিষয়টি এমন হয়েছে, ‘ডিম আগে, না মুরগি আগে? এর সমাধান আসলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সকল পক্ষকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেই দিতে হবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 


গেল ৭ জুলাই সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা রাজধানী ঢাকায় স্বাস্থ্য সচিবসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করে এসে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, ছয় সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের আউটডোর চালু হবে। অক্টোবরে মেডিসিনের ইনডোর চালু এবং ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গভাবে হাসপাতাল চালু করা যাবে।
ইতোমধ্যে ছয় সপ্তাহের স্থলে ১১ সপ্তাহ পার হয়েছে! হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ ভবনই সমঝে নেয় নি।

 


রবিবার সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপ—পরিচালক ডা. আহমেদ হোসেনের কাছে প্রশ্ন ছিল, ছয় সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের আউটডোর চালু করার কথা ছিল, সেটির কী হলো?
উত্তরে তিনি জানালেন, হাসপাতালের ভবন এখনো সমঝে নেওয়া হয় নি। এজন্য প্রশাসনিক অনুমোদন হয় নি। প্রশাসনিক অনুমোদন না হওয়ায় হাসপাতালের ইকোনমিক কোড (অর্থনৈতিক কোড) তৈরি হয় নি।
তিনি বললেন, ভবন সমঝে নেবার পর প্রশাসনিক অনুমোদন হবে। ইকোনমিক কোড তৈরি হবে। ভবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করতে হবে। যেহেতু ইকোনমিক কোড নেই, আমার এক টাকাও খরচ করার সাধ্য নেই। তিনি জানালেন, এর আগে এসব নিয়ে সকলপক্ষের সমন্বয় সভা হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে ভবন সমঝে নেবার প্রক্রিয়া হয়েছিল, এটি পিছিয়ে গেছে। এখন আরেকবার সমন্বয় সভা করতে হবে।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. কামরুজ্জামান বললেন, ভবন সমঝে নিলে এর রক্ষণাবেক্ষণ কে করবে, এ নিয়ে ভাবতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ডাক্তার—কর্মচারীসহ ২১৫ জনের জনবল অনুমোদন পায়। কিন্তু এর নিয়োগ হয় নি। তিনি বললেন, এসব বিষয়ে মতামত জানতে স¦াস্থ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ঢাকায় এসেছি। দেখি কী হয়।

 


সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ম্যোল্লা রবিউল ইসলাম বললেন, ভবন সমঝে নেবার জন্য এক বছর আগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরে আবার সংশোধিত চিঠিও দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিবসহ দায়িত্বশীলরা এসে সরেজমিনে দেখেও গেছেন। এখন আমাদের কোন কাজ বাকী নেই।

 


সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল চালু ও শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে গেল ২২ জুন আন্দোলনের ডাক দেয় সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি, সড়ক অবরোধ করেছিল শিক্ষার্থীরা। এরপর কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া থেমন কোন অগ্রগতি হয় নি। 

 


প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জে একটি আইকোনিক প্রজেক্ট হিসেবে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প (তখনকার সময়ে নাম ছিল বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল) একনেকে অনুমোদিত হয়। মেডিকেল কলেজ এবং ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ১১০৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। পরে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে সবমিলিয়ে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

 


সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর মৌজায় ‘সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ’—এর জন্য মদনপুর—দিরাই সড়কের উভয়পাশেই মদনপুর পয়েন্ট এলাকায় ২০২০ সালের মার্চ মাসে ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় ছিল ২৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, মেডিকেল কলেজ ভবন, অডিটোরিয়াম, ছাত্রাবাস, ডক্টরস ডরমিটরি, ডক্টরস আবাসিক ভবন ইত্যাদিসহ প্রায় ২০ টি ভবনের কাজ শেষ প্রায়। ২০২১ সাল থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এই মেডিকেলের পাঠদান শুরু হয়। এক পর্যায়ে ২০২৪ সালে নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হয় শিক্ষা কার্যক্রম। আধুনিক এই ক্যাম্পাসে অবকাঠামোর সংকট না থাকলেও পাঁচটি ব্যাচের ৩৫০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করার মত শিক্ষক নেই। নেই ক্লিনিক্যাল ক্লাসের ব্যবস্থা।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার