বালু লুটের নেপথ্যে কারা?

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৪০

দোয়ারাবাজার উপজেলার মরাচেলায় নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন থামছে না। নদীর পাড় কেটে বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে মজুত ও সরবরাহের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এরই মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু সেই মামলা ঘিরেই উঠেছে নতুন প্রশ্ন।

 


স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলন ও ব্যবসার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেকে মামলার বাইরে থেকে গেলেও নিরপরাধ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আরও গুরুতর অভিযোগ করেছেন মামলার দুই সাক্ষী। তাদের দাবি মামলা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না, অথচ তাদের নাম সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। একারণে প্রশ্ন উঠেছে, কার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৭ জনকে আসামি করা হলো? সাক্ষীদের বক্তব্য না নিয়েই তাদের নাম কীভাবে মামলায় এলো? আর নদীর বালু কোথায় যাচ্ছে এবং কারা এর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন সেটি তদন্ত হচ্ছে কি?

 


মামলার সাক্ষী পূর্ব সোনাপুর হুসাইনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মো. আবু তাহের বলেন, আমাকে যে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার অজান্তেই সাক্ষী করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ হয়নি।

 


দক্ষিণ সোনাপুর গ্রামের আরেক সাক্ষী ছামির আলী বলেন, চেলা নদীতে ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে যে মামলা করা হয়েছে, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। নদীতে কারা জড়িত, কাউকেই আমি চিনি না।

 


দুই সাক্ষীর এমন বক্তব্য মামলার তথ্য সংগ্রহ ও সাক্ষী নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের বক্তব্য সঠিক হলে, তাদের নাম কীভাবে সাক্ষীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো তার ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় নদীর পাড় কেটে উত্তোলন করা বালু কয়েক কিলোমিটার দূরের বিভিন্ন ডাম্পিং পয়েন্টে নিয়ে স্তূপ করা হচ্ছে। নদীতে মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও বালু মজুতের স্থান, পরিবহনকারী এবং এর পেছনে অর্থায়নকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একই মাত্রায় ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। তাদের প্রশ্ন, নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালু তুলে অন্যত্র নিয়ে গেলে সেটি পরিবহনের জন্য যানবাহন, শ্রমিক, অর্থ ও ক্রেতা প্রয়োজন। তাহলে শুধু উত্তোলনের স্থানে অভিযান চালিয়ে পুরো চক্র শনাক্ত করা সম্ভব কি না?

 


স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের নেটওয়ার্ক ভাঙতে হলে উত্তোলনকারী থেকে পরিবহনকারী, ডাম্পিং পয়েন্টের নিয়ন্ত্রক, অর্থদাতা ও ক্রেতা পুরো সরবরাহচক্র তদন্তের আওতায় আনতে হবে।  তাদের দাবি, প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করতে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন, ডাম্পিং পয়েন্টের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ, বালু বিক্রির আর্থিক লেনদেন এবং নদী থেকে বালু সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়ানোর অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 


নদীর পাড় কেটে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নদীভাঙন নিয়েও উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, বর্ষায় পানির চাপ বাড়লে দুর্বল হয়ে পড়া নদীতীর ভেঙে কৃষিজমি, বসতভিটা ও স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান নয়, চেলা নদীর কোন কোন স্থান থেকে কী পরিমাণ বালু উত্তোলন হচ্ছে, কোথায় মজুত হচ্ছে এবং কারা এর সুবিধাভোগী এসব তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

 


সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মুহাইমিনুল হক বললেন, সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ার পর মামলা করা হয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার