রিল বানাতে ব্যস্ত দম্পতি, সাগরে হাবুডুবু খেল শিশু

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৩

সংগৃহীত ছবি

রিল বানাতে ব্যস্ত এক দম্পতির পাশে সমুদ্রের ঢেউয়ে পড়ে এক শিশুর ছটফট করার ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। পরে পাশেই থাকা এক ব্যক্তি দ্রুত এসে শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করেন।

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতের তীর ধরে হাঁটছেন এক নারী ও পুরুষ। তারা মোবাইল ফোন বা সেলফি স্টিক দিয়ে নিজেদের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় নারীকে শিশুটির হাত ধরে পানির কাছ দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি পিছলে বালুর ওপর পড়ে যায়। এরপর সাগরের ঢেউ এসে তাকে এদিক-সেদিক ঠেলে দিতে থাকে।

 

 

এ সময় নারীকে একবার পেছনে তাকাতে দেখা গেলেও পরে তিনি আবার ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে থাকেন। অন্যদিকে পুরুষটি ভিডিও ধারণ অব্যাহত রাখেন। রিল তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় দম্পতি শিশুটির বিপদের বিষয়টি খেয়াল করেননি বলে ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মারিয়াম নামে এক ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করেন। তিনি দাবি করেন, স্বামীর সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন। তার অভিযোগ, দম্পতি রিল তৈরিতে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে, তাদের সন্তান বিপদের মধ্যে পড়লেও বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে এক পথচারী এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তা না হলে ঢেউয়ে শিশুটি ভেসে যেতে পারত।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আসক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মারিয়াম। তিনি জানতে চান, রিল তৈরি কি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে মানুষ নিজের সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়টিও উপেক্ষা করছেন?

 

 

তবে ঘটনাটি ঠিক কোথায় ও কবে ঘটেছে, তা জানা যায়নি। ওই দম্পতির পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।

 

 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই শিশুটির প্রতি দম্পতির অসতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের মতে, ভিডিও ধারণের চেয়ে শিশুটির নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

 

 

ঘটনাটি জনসমাগমপূর্ণ স্থানে শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরিতে অতিরিক্ত মনোযোগের ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

 

 

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘কোনো রিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মুহূর্তই একটি শিশুর জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার মতো মূল্যবান নয়।’

 

 

আরেকজন লিখেছেন, ‘একটি রিল মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়, কিন্তু একটি শিশুর জীবনের কোনো দ্বিতীয় সুযোগ নেই। সৌভাগ্য যে ওই ভাই ঘটনাটি দেখতে পেয়েছিলেন। শিশুদের প্রতি এমন অবহেলা কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়।’

 

 

তবে কেউ কেউ ভিডিওটিকে ভুয়া এবং ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো বলেও দাবি করেছেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, ভিডিওটির সত্যতা কিংবা ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। সূত্র: এনডিটিভি

সূত্র:যুগান্তর .কম

সাহিত্য ও সংস্কৃতি থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার