প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৮
অশ্রম্নসিক্ত নয়নে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার সকালে দশমী পূজা শেষে দর্পন বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে ধমীর্য় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। সন্ধ্যায় সুরমা নদী এবং পাগনা, হালি, ছনুয়ার হাওরে জামালগঞ্জ উপজেলার ৫৫টি মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।
এর আগে উপজেলার সাচনা জগন্নাথ জিউর মন্দির পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর হক শান্ত, জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. বন্দে আলী সহ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমরেন্দ্র আচার্য্য সম্ভু, সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার রায়, জগন্নাথ জিউর মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অজয় পাল, চৌধুরী, সহ সভাপতি অজিত রায়, সাচনা বাজার ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাসুক মিয়া, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সভাপতি কৃপেশ বনিক, সাধারণ সম্পাদক অনন্ত পাল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব বনিক।
প্রতিমা বিসর্জন শেষে জামালগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমরেন্দ্র আচার্য্য সম্ভু ও সাধারণ সম্পাদকব অজিত কুমার রায় বলেন, এবার উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের ৫৫টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে দুগোর্ৎসব সম্পন্ন হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আসনার বাহিনী, মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। সকলের সহযোগিতায় সম্প্রীতির জামালগঞ্জে সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপিত হয়েছে।
জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. বন্দে আলী বলেন, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব মুখর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এই সফলতার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব উপজেলার শান্তিপ্রিয় জনগণের। পূজা চলাকালীন সময়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেয়ার সকল নির্দেশনা মেনে চলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রতিটি মণ্ডপে আপনাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদলের ভূমিকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজকে ত্বরান্বিত করেছেন। আপনারা প্রমাণ করেছেন সচেতনতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য থাকলে যে কোন বড় উৎসবকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপন করা যায়। আগামীতে আপনাদের সাথে পুলিশের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে বলে আমি প্রত্যাশা করি। আপনাদের পাশে বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় আছে এবং থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলাবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি এই উপজেলায় এসে যেমনটি শুনেছিলাম— জামালগঞ্জ সব সময় ধমীর্য় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দে্যর প্রতীক। এবারের পূজায় আপনারা প্রমাণ করেছেন, সবাই মিলেমিশে যে কোন ধমীর্য় উৎসবকে সুন্দরভাবে উদযাপন করা যায়। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনাগুলি পুরোপুরি মেনে চলার কারণে এতো বড় আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দায়িত্বশীল ভূমিকা উপজেলার সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আগামীতেও যে কোন জাতীয় বা ধমীর্য় উৎসবে আপনাদের এরকম সহযোগিতা থাকলে উপজেলাবাসীর উন্নয়ন ও অগ্রগতি এগিয়ে যাবে বলে আমি আশা করছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন