প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৮
অঞ্জলি, আরতি, পূজা—অর্চনা, সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বুধবার শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনের উৎসবের শেষ দিনে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে মন্দিরে মন্দিরে ভিড় করেন ভক্তরা। পূজা—অর্চনার পাশাপাশি ছিল সিঁদুর খেলা, আনন্দ—উৎসব। তবে বিদায়ের মুহূর্তে আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে ছিল বিষাদের অনুভূতিও।
বুধবার বিকাল থেকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে আসেন আয়োজকরা। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
(1).jpg)
এর আগে পূজামণ্ডপগুলোতে সকাল থেকেই নারী—পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মণ্ডপে এসে পূজা দেন। কেউ দেবী দুর্গার প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন, আবার কেউ স্বজনদের সঙ্গে উৎসবের মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তোলেন।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় ‘দুর্গা’ ‘দুর্গা’ জয়ধ্বনির পাশাপাশি ‘আসছে বছর—আবার হবে’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে জুবিলী স্কুলের মাঠ। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও ভক্তদের আবেগঘন উপস্থিতিতে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে অনেকের চোখেমুখে ছিল আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের ছাপ। আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা বিসর্জন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দশমীর বিশেষ আয়োজনের মধ্যে ছিল দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ ও সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। এ সময় মণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে প্রতিমা বিসর্জনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের মধ্যে বিদায়ের আবহও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
.jpg)
এর আগে মঙ্গলবার মহানবমীতে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় পূজা ও অঞ্জলি দেন ভক্তরা। বুধবার সকালে পৌর শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, ঢাক ও কাঁসর ঘণ্টার শব্দে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। দেবীর চরণে অঞ্জলি দিয়ে ভক্তরা পরিবার, সমাজ ও দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করেন।
শহরের নতুনপাড়া, নবীনগর, কালীবাড়ি ও ওয়েজখালীসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপে ছিল উৎসবের আমেজ। পূজার পাশাপাশি কয়েকটি মণ্ডপের আশপাশে বসে মেলা। মেলার দোকানগুলোতে চুড়ি, গয়না, পোশাক ও শিশুদের খেলনা সাজিয়ে রাখা হয়। পূজা দিতে আসা অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলা ঘুরে দেখেন এবং পছন্দের জিনিস কেনেন। শিশুদের উপস্থিতি ও কেনাকাটাকে ঘিরে মেলাগুলোতে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়।
গত শনিবার দেবীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজা, অঞ্জলি, আরতি, মেলা ও বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে কয়েক দিন ধরে উৎসবমুখর ছিল পৌর শহরের পূজামণ্ডপগুলো। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সেই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন