প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:১২
সুনামগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক দুইটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নাসির বিড়ি ও মদ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় চোরাচালানে জড়িত অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা বিড়ি ও মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। যানবাহনসহ সব মিলিয়ে জব্দ করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য ২৭ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দোয়ারাবাজার থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই মুকুল খান; তাঁর সাথে ছিলেন এএসআই মো. রৌশন আলী, এএসআই মো. ইসমাইল হোসেন ও কনস্টেবল মোশারফ হোসেন।
শনিবার রাত ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার ছাতুরপাড় এলাকায় জনৈক কালামিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশের কাঁচা রাস্তায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় বিক্রির উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ভারতীয় নাসির বিড়ি বহনের দায়ে মো. জসিম উদ্দিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ছাতুরপাড় এলাকার মৃত জহুর আলীর ছেলে।
অভিযানে তার হেফাজত থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়। জব্দ করা বিড়ির আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং অটোরিকশাটির মূল্য ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এই অভিযানে ১০ লাখ ৪ হাজার টাকার মালামাল জব্দ করা হয়।
একই দিন রাত ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার মংলারগাঁও এলাকার দোয়ারাবাজার—ছাতকগামী পাকা সড়কে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রাইভেটকারে করে ভারতীয় মদ বিক্রির উদ্দেশ্যে বহনের অভিযোগে মো. আতিকুর রহমান আতিক (৩৩) নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার ইকরছই গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে।
এ অভিযানে তাঁর হেফাজত থেকে AC Black ব্রান্ডের ৫৫ বোতল এবং ICE Vodka ব্রান্ডের ১৭ বোতলসহ মোট ৭২ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয় (প্রতিটি বোতলে ৩৭৫ মিলি করে মোট ২৭ হাজার মিলি)। জব্দ করা মদের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ‘ঢাকা মেট্রো—গ ১৭—৪২৩১’ নম্বরের ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে এই অভিযানে ২১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল জব্দ করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দোয়ারাবাজার থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন