প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩১
নিষিদ্ধ ঘোষিত সেই ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তারের পর এবার তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে চীফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক জসিম উদ্দিন তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে এক কিশোরী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নারী ও শিশু আদালতের বিচারক মাসুদুর রহমান তাকে সংশোধনাগারে পাঠান। আদালতে আসামিপক্ষের কেউ জামিনের আবেদন করেন নি।
পুলিশের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে থানার হাজতখানায় রাখা হয়। পরে ৩০ অক্টোবর রাত ১২টা ৫৭ মিনিটের দিকে হাজতখানা পর্যবেক্ষণকালে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। এরপর তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রিন্সকে ঘিরে তাঁর পরিবারের সদস্য এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জরুরি বিভাগে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রিন্স মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উত্তেজনাকর আচরণ করেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের কম্পাউন্ডে প্রিন্সের বাবা, মা, ভাই—বোন, আত্মীয়স্বজন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মারধর করা হয় এবং তাদের সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে প্রিন্সকে সিলেটে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলে তার স্বজন ও অন্যরা পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেন এবং পুলিশের হেফাজত থেকে প্রিন্সকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয় পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রিন্সকে সিলেটের কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি থাকার তথ্য পেয়ে পুলিশ পুনরায় হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, মারধর, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন— সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া এলাকার দেওয়ান ছাদ রাজা চৌধুরীর ছেলে দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), তাঁর ছেলে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (২০) এবং মেয়ে শাম্মী আক্তার পলি (৩৮) ও সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬)। এ ছাড়া দেওয়ান ফারুক রাজা চৌধুরীর ছেলে ফাহিম রাজা চৌধুরী (২০) রয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ছাতকের জালালপুর গ্রামের শফিক আহমদের ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ (২১), গোলাপগঞ্জের ভাদেরশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকরিব রহমান তানহির (২০), দিরাই উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ (২১), সুনামগঞ্জের হাসননগর এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে রানা (২৫) এবং জামালগঞ্জ উপজেলার কদমতলী গ্রামের বিজয় করের ছেলে রজয় কর (১৮)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে দণ্ডবিধির ১৪৩/১৮৬/১৮৯/২২৪/২২৫/৩০৭/৩৩২/৩৫৩/১১৪/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
কোর্ট ইন্সপেক্টর শাজাহান সিরাজ বিচারকের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিচারক সংশোধনাগারে এবং অন্যদের চীফ জুডিসিয়াল আদালতের বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন