প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪৯
ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা, সন্তানদের পড়াশোনা ও জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ক্ষতিগ্রস্তরা
আমার পুলা—পুরির (ছেলে—মেয়ে) পড়ার আর পোশাক নাই। ৬০ হাজার টাকা নগদ ছিল, সব পুড়ে ছাই। ১০ হাজার টাকার চাল, দুইটা গরু, তোষকের মধ্যে স্বর্ণের টুকরা ছিল—সব শেষ। আমি এখন বাঁচব কী করে?’ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মিনতি দাস।
দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ১২টি কৃষক পরিবারের ঘরবাড়ি, ধান—চাল, বীজধান, সার—কীটনাশক, আসবাব, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গবাদিপশু পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা হবে স্থানীয়রা জানায়।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত আটটার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বসতঘর ও কৃষিকাজের উপকরণ হারিয়ে তাদের জীবিকা ও সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
(1).jpg)
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো— গৌরাঙ্গ দাস, প্রমোদ দাস, খুশিলাল দাস, মতিলাল দাস, অমৃত লাল দাস, দীনেশ চন্দ্র দাস, সুবল দাস, গৌরমোহন দাস, কালীচরণ দাস, সোমলাল দাস, হরিমোহন দাস, বারিন্দ্র দাস ও রমাকান্ত দাসের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের একটি বসতঘরে প্রথমে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় একের পর এক বসতঘর পুড়ে যায়। আগুনে ঘরে সংরক্ষিত ধান—চাল, বীজধান, সার—কীটনাশকসহ কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় উপকরণ পুড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, পল্লী বিদ্যুতের লাইনে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পেয়ে গ্রামবাসী আগুন নেভানোর কাজে এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, পল্লী বিদ্যুতের লাইনে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সবাই কৃষিজীবী।
দিরাই ফায়ার স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব—অফিসার শিশির কুমার দাস জানান, তাদের দল জারুলিয়া গ্রামে যাওয়ার পথে নদীর কারণে গাড়ি ও সরঞ্জাম নিয়ে আটকে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে নৌকা না পাওয়ায় সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খালি হাতে গ্রামে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালান।
স্থানীয় বাসিন্দা রন দেবনাথ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকের ঘরে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী অবশিষ্ট নেই। বসতঘর ও কৃষিকাজের উপকরণ হারিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন