শান্তিগঞ্জ

খালি ভিটার সুযোগ নিয়ে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৬

শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও কোনাবাড়ি গ্রামে প্রবাসে থাকা ও বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে অন্যের বসতভিটার প্রায় ২০টি গাছ জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান টিপু শান্তিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়ভাবে সালিসে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ও ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান টিপু সম্পর্কে চাচা—ভাতিজা এবং তারা নোয়াগাঁও গ্রামের পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করেন।

 


ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান টিপুর বড় ভাই আবদুল মান্নান প্রবাসে এবং তাঁর মা সালেমা বেগম ছোট ছেলে টিপুকে নিয়ে পিত্রালয় পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামে বসবাস করেন। মূলত বাড়িটি খালি থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একই গ্রামের মৃত তাজুদ আলী ওরফে তাজ উল্লাহর ছেলে আমিরুল ইসলাম এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

 

 

 


গত ২৭ অক্টোবর শান্তিগঞ্জ থানায় দাখিল করা অভিযোগে হান্নান টিপু উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী আমিরুল ইসলামের সঙ্গে তাদের পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত ২৭ অক্টোবর সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বাড়ির সীমানার একটি বড় রেইনট্রি গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলেন। এ সময় বাধা দিলে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বাধ্য হয়ে আইনের আ¤্রয় নেন।
গত সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ও ভুক্তভোগী টিপুর বাড়ি পাশাপাশি অবস্থিত। টিপুর ভিটার পূর্ব পাশে একটি টিনশেড ঘর এবং পশ্চিমে বনাঞ্চল রয়েছে। আশপাশের প্রায় ২০টি গাছ কাটার চিহ্ন দেখা যায়। এর মধ্যে দু’একটি কাটা গাছ পড়ে থাকলেও বাকি গাছগুলো কেটে আমিরুল ইসলাম নিজের ভিটায় নিয়ে গেছেন। তার ভিটায় এবং ঘরের সামনে বেশ কিছু গাছের ডাল ও গুঁড়ি জমা করে রাখা হয়েছে।

 


স্থানীয় নোয়াগাঁও গ্রামের মনা উল্লাহ বলেন, বদলাবদলির করা জায়গার বর্তমান মালিক হান্নান ও মান্নান। তাদের জায়গা থেকে জোরপূর্বক গাছ কেটে নিচ্ছেন তাদের চাচা আমিরুল ইসলাম।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, জায়গাটি আগেই ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি আমিরুল ইসলাম বিদেশ থেকে এসে ঝামেলা পাকাচ্ছেন এবং গাছগুলো নিজের দাবি করছেন।
শালিস ব্যক্তিত্ব সুজন মিয়া বলেন, বাড়ির জায়গা, গাছ ও রাস্তা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আমরা বিষয়টি বসে শেষ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমিরুল ইসলাম বৈঠক থেকে উঠে চলে যান। পরে তাকে বুঝিয়ে আবার আনা হলেও পরবর্তীতে আবদুল হান্নান টিপুর মা আর বসতে রাজি হননি। 

 


নিজের বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার লাগানো গাছ আমিই কেটেছি। এলাকার সবাই জানেন এগুলো আমার নিজ হাতে লাগানো গাছ। আমার ওপর আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে সালিস বৈঠক থেকে চলে যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শান্তিগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির উদ্দিন বলেন, শালিস ব্যক্তিরা বিষয়টি নিজেদের উদ্যোগে শেষ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। পরবর্তীতে তারা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এখন অভিযোগ অনুযায়ী ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার