প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:১১
ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আবুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও দেয়াল থেকে প্রায়ই খসে পড়ছে পলেস্তারা। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। যে কোনো সময় ভবনের পলেস্তারা কিংবা অংশ বিশেষ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকে পাঠে মনযোগ ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের।
আবুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯৩—৯৪ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের ভবনটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কার ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ভীমে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। পাঠদান চলাকালে ভীম, ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১০২ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এসব শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। হঠাৎ পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় শিক্ষক—শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিভাবকেরাও তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তা না হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রাণহানিসহ গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েম মিয়া জানায়, মাঝে মাঝে ধপাস করে পলেস্তারা খসে পড়ে। তখন তারা চমকে যায়।
৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুইটি আক্তার জানায়, তারা সব সময় ভয়ে থাকে। কখন জানি পলেস্তারা খসে মাথায় পড়ে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মালবিকা সরকার বলেন, প্রতিটি শ্রেণি কক্ষের ভীমগুলো জরাজীর্ণ হয়ে আছে। মাঝে মধ্যেই পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থীদের ও আমাদের শরীরে পড়ে। ৫ম শ্রেণির কক্ষে সকালে প্রাক—প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। প্রায়ই ছাদ থেকে কংক্রিটের গুড়ো নিচে পড়ে। তখন কোমলমতি শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে যায়।
সহকারী শিক্ষক তাসলিমা আক্তার বলেন, আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন ছাদ ধসে পড়ে। আমরা নিশ্চিন্তে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে পারি না। বষার্কালে ছাদ থেকে পানি পড়ে।
সহকারী শিক্ষক সাথী সরকার বলেন, একদিন প্রাক—প্রাথমিকের ক্লাস নেওয়ার সময় ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি না হলেও ভয় পেয়ে যায় শিশুরা।
সহকারী শিক্ষক সেলিনা আক্তার বলেন, মনে আতঙ্ক থাকলে পাঠদানে মনযোগী হওয়া যায় না। এতে পাঠদানের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়।
আরেক সহকারী শিক্ষক নিরুপমা তালুকদার, এ বিদ্যালয়ে আমরা নিরাপদ নই। দ্রুত এ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজমুল হক খোকন বলেন, প্রায় ৫ বছর ধরে বিদ্যালয়ের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েকদিন পূর্বে ক্লাস শুরুর কিছুক্ষণ আগে একটি শ্রেণিকক্ষের ভীমের কিছুর অংশ ধসে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকায় কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এটি প্রতিনিয়ত ঘটছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমরা বড় রিস্কে আছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবগত করা হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে বিরত থাকার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে। দ্রুত একটি টিনসেড ঘর নির্মাণ করে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হবে এবং অনুমোদনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন