প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
ছবি : সংগৃহীত
অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ-বাংলাদেশ। এর আগে একটি নাটকের শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
গত ৪ অক্টোবর তানজিন তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈ বরাবর পাঠানো পৃথক চিঠিতে বলা হয়— গত ৭ জুলাই তাদের সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুজনের কেউ-ই সেই নোটিশের জবাব দেননি। পরে সালিশবৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় তাদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সংগঠনটি তাদের সদস্যপদ স্থগিত ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই সামাজিক মাধ্যমে গতকাল রাতেই ফেসবুক লাইভে এসে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান তানজিন তিশা। জানান, সেদিন শুটিং সেটে কী হয়েছি; তা থেকে শুরু করে অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশবৈঠক, সদস্যপদ স্থগিতের কারণসহ বিগত সময়ের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন তিনি।
সালিশবৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিশা বলেন, বলা হয়েছিল— আমরা দুজনই যেন ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিই এবং একটি ভিডিওবার্তা পাঠাই। সে (সামিয়া অথৈ) ভিডিওটি দেয়নি। আমিও কোনো কারণে দিতে পারিনি। আমি নোটিশ অমান্য করেছি বলে আজ আমাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঠিক আছে।
তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে অনেক কিছু দেখেছি, শাড়ি–কাণ্ডও দেখেছি। আজ হোক কিংবা কাল— সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি। আট মাস ধরে যত বাধাই আসুক, যা-ই ঘটুক, আমি থেমে নেই। আমি থেমে থাকব না। আমি হাল ছাড়ব না। এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথাটা বলতে পারছি। কারণ আমি জানি— আমি ভুল কিছু করিনি।’
অভিনেত্রী বলেন, পেশাগত বিরোধ মীমাংসার বদলে তা প্রকাশ্যে এনে কাউকে হেয় করা তার ক্যারিয়ারের ক্ষতি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা প্রচার আমাদের সমালোচিত করে। আমরা যারা কাজ দিয়ে টিকে থাকতে চাই, তাদের জন্য সেটি কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, একটা জায়গায় কাজ করতে গেলে অনেকের সঙ্গে মতের অমিল থাকতে পারে, ঝামেলাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমি আগে সামাজিক মাধ্যমে গিয়ে সব বলে দেব কিংবা সাংবাদিকদের জানাব— যাতে কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়।
গত মার্চে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিংয়ে সামিয়া অথৈর সঙ্গে বিরোধের ঘটনা প্রসঙ্গে তিশা বলেন, সেদিন শুটিং সেটে কী ঘটেছিল, তা উপস্থিত সবাই দেখেছেন। ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে একজন মহান শিল্পী আছেন। তার সঙ্গে আমার একটা সমস্যা হয়েছিল। পুরো শুটিং সেটের সবাই সেই ঘটনার সাক্ষী। কী হয়েছে, কী হয়নি— সবাই দেখেছেন।
নাটকে নিজের অভিনীত চরিত্র প্রসঙ্গ তুলে অভিনেত্রী বলেন, 'আমার পাগলের চরিত্র তো আমি করেছি। নাকি আরেকজন পাগলের চরিত্র করেছে— সেটাও আপনারা দেখেছেন। কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। দৃশ্যটি দেখলেই বুঝবেন, কে আসলে ইম্প্রোভাইজ করেছে। কে আগে অ্যাটাক করেছে? কে অ্যাটাক করে নিজেকে নির্যাতিত হিসেবে দাবি করেছে; সেটি আপনারা বুঝতে পারবেন।'
ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী সংঘের উদ্যোগে দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছিল। সালিশবৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেটিও ফেসবুক লাইভে তুলে ধরেন তানজিন তিশা। তিনি বলেন, আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন, কী ঘটেছে— সবকিছু শোনা হয়েছে। সেই বৈঠকের নোটিশও আমার কাছে আছে, লিখিতভাবে আছে।
সূত্র:যুগান্তর.কম
সাহিত্য ও সংস্কৃতি থেকে আরো পড়ুন