প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৭:৪৮
টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ে মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। ১৯৫২ সালে প্রতিঘিমঞত অনুমোদিত ৫ শিক্ষকের এ বিদ্যালয়ে কখনো পূরণ হয়নি ৫ শিক্ষকের পদ। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটি ২০১৫ সাল থেকে শূন্য। প্রাক প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত সর্বমোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২১৫ জন। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সানজু মিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে অবহিত করলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পার্শ্ববর্তী তরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সেতারা বেগমকে গত পহেলা জানুয়ারি তারিখ থেকে মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়। সেতারা বেগমকে ঐ বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হলেও তিনি সপ্তাহে এক থেকে দু’দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন। এমতাবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একাই চালাতে হচ্ছে ৬টি শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক সেলিম আহমেদ বলেন, মন্দিয়াতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ে অবস্থিত হওয়ার কারণে হাওরে পর্যটনে আসা অনেক সরকারী কর্মকর্তাগণ বিদ্যালয়ে এসে পরিদর্শন করে যান। তারা কি যে পরিদর্শন করেন তারাই জানেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট বিষয়টি আর সমাধান হচ্ছে না।
শিক্ষক অভিভাবক সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, আমরা হাওরবাসী এমনিতেই আবহেলিত। তারপর বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পাঁচটি পদ রয়েছে। কখনো পাঁচ শিক্ষকের পদ পূরণ হবে দূরের কথা, তিনটি পদও কখনো পূরণ হয়নি। জানুয়ারি মাাসের এক তারিখ পার্শ্ববর্তী তরং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রেষণে একজন শিক্ষক দিলেও তিনি সপ্তাহে এক থেকে দু’দিন উপস্থিত থাকেন।
সহকারী শিক্ষিকা সেতারা বেগম বলেন, আমি নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমার দুইটি বাচ্চা রয়েছে তাদের বিভিন্ন সময় অসুস্থতার কারণে যেতে পারি না। তাছাড়া আমি নিজেও অনেক সময় অসুস্থ থাকায় বিদ্যালয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থাকতে হয়।
মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সানজু মিয়া বলেন, ২১৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঠদান করা খুবই কষ্টের কাজ। তাদের পাঠদান যেমন তেমন সামাল দেয়াই কঠিন কাজ। শিক্ষা অফিস প্রেষণে একজন শিক্ষিকা দিচ্ছেন তাও গড়হাজির থাকেন।
উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আবুল খায়ের বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষক পোস্টিং দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে কিছুটা সমাধান করা যেতো। এ অবস্থায় আগামী মাসে সহকারী শিক্ষিকা সেতারা বেগমকে পরিবর্তন করে নতুন একজন পুরুষ শিক্ষক দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন