প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৪ ০৬:১৯
বিদ্যালয়ে শিক্ষক মাত্র একজন। তিনি গেছেন উপজেলা সমন্বয় সভায়। এ কারণে বিদ্যালয়ে বুধবার পাঠদান হয় নি। এটি তাহিরপুর উপজেলার মন্দিয়াতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র।
জানা যায়, বুধবার তাহিরপুর উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাসিক সমন্বয় সভা ছিল। এমতাবস্থায় উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র সহকারী শিক্ষক বর্তমানে (ভারপ্রাপ্ত) সানজু মিয়া বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে রেখে উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাসিক সমন্বয় সভাতে অনেকটা বাধ্য হয়েই উপস্থিত হন।
উপজেলার ১৩৪ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ বাধ্যতামূলকভাবে মাসিক সমন্বয় সভাতে উপস্থিত থাকতে হয়। প্রতি মাসের ১০ তারিখ উপজেলা গণমিলনায়তন কেন্দ্রে মাসিক সমন্বয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১১ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী এমপি তাহিরপুরে আসবেন, সেজন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে সভাটি এগিয়ে ৬ মার্চ বুধবার করা হয়েছে।
১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত অনুমোদিত ৫ শিক্ষকের এ বিদ্যালয়ে কখনো পূরণ হয়নি ৫ শিক্ষকের পদ। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটি ২০১৫ সাল থেকে শূন্য। প্রাক প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত সর্বমোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২১৫ জন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সানজু মিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে এসব বিষয় অবহিত করেন। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পার্শ্ববর্তী তরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে গত পহেলা জানুয়ারি তারিখ থেকে মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়।
সম্প্রতি ঐ শিক্ষিাকেও প্রেষণে নিয়োগের আদেশ বাতিল করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
শিক্ষক অভিভাবক সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে পাঁচ শিক্ষকের পদ পূরণ হবে দূরের কথা, তিনটি পদও কখনো পূরণ হয় ন।
মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সানজু মিয়া বলেন, ২১৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঠদান করা খুবই কষ্টের কাজ। তাদের পাঠদান যেমন তেমন সামাল দেয়াই কঠিন কাজ। বুধবার বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের রেখে অনেকটা বাধ্য হয়েই উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাসিক সমন্বয় সভাতে হাজির হতে হয়েছে।
উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আবুল খায়ের বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষক পোস্টিং দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে কিছুটা সমাধান করা যেতো। তিনি বলেন, সম্প্রতি দু’জন শিক্ষক প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দু’জন শিক্ষকের নাম কি এমন প্রশ্ন করা হলে, তিনি শিক্ষকদের নাম বলতে পারেন নি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, মন্দিয়াতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুদিনের মধ্যেই দু’জন শিক্ষক প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন