স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ, ২০২৪ ০৬:৫১

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।


সকাল সাড়ে নয়টায় শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখ্ত পলিন, সুনামগঞ্জ পৌসভার মেয়র নাদের বখ্ত সহ আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জেলা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ড, জেলা আওয়ামী লীগ, সুনামগঞ্জ পৌরসভা, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 


সকাল দশটায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 


জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী’র সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার (রেকর্ড রুম) অভ্র জ্যোতি বড়াল’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত, জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান প্রমুখ।


সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান যখন সৃষ্টি হয় তখন পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ৫৬%। মাথাপিছু আয় ছিল সমান সমান। ১৯৭১ সালে এসে দেখা যায়— পশ্চিম পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে তিনগুণ হয়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়েনি বরং আরও কমেছে। পঞ্চবার্ষিকতে পরিকল্পনায় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ২০% এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ৮০% বরাদ্দ রাখা হয়। এদিকে ৫৬% মানুষের মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দু করা হয়। এই শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ ছিল, হতাশা ছিল। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ জয়লাভ করেন। সংসদ গঠনের লক্ষ্যে ৩রা মার্চ প্রথম অধিবেশন ডাকা হয়। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী সেই অধিবেশন ১ মার্চ মুলতবি করে। নানামুখী চাপ নিয়ে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে অগ্নিগর্ভ ও প্রাঞ্জল ভাষণ দেন। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন স্বাধীনতার চেতনায়। সে কারণেই ৭ ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।


আলোচনা সভা শেষে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবস উয্দাপন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে প্রথমে দলীয় সংগীত, পরে নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি এবং একক দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এর আগে বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা সরকারি,  স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনসমূহে সঠিক নিয়মে, সঠিক রং ও সঠিক মাপের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। 


বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে সকালে সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর স্কুল অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘৭ই মার্চের ভাষণ পরিবেশন, উপস্থিত রচনা লিখন, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে ৭ই মার্চের তাৎপর্য আলোচনা সভা ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হাসান, সহকারী শিক্ষক নাজিরা জাহান চৌধুরী, দিপায়ন চৌধুরী, রুমা চক্রবর্তী, ফারজানা আক্তার নিটু রানী দাস, আমিনা খাতুন স্নিগ্ধা রায়, অভিজিৎ রায়, পূর্বান্ত বিশ্বাস সাগর, দূর্বা চৌধুরী পিয়া প্রমুখ। 
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার