প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৪ ১৯:১৯
বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পুরুষ ও নারী শ্রমিকরা। -সু,খবর ছবি
ছাত্র আন্দোলনে দুর্বৃত্তদের নৈরাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশব্যাপি কারফিউ জারি করা হয়েছে। যার চাপ পড়েছে নি¤œ আয়ের প্রতিটি সেক্টরের মানুষের মধ্যে। পৌর শহরের কালিবাড়ি পয়েন্টে সকালে কাজের আশায় জমায়েত হন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পুরুষ ও নারী শ্রমিকরা। তারা বলেছেন, গেল কয়েকদিন ধরেই কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। কয়েকজন বললেন, ‘এরপরেও পেটের জ¦ালায় কাজের আশায় আই (আসি)’।
কাজের প্রত্যাশায় আসা আমির হোসেন বললেন, ‘ব্রাহ্মণগাঁও থাকি প্রত্যেকদিন ৬০ টাকা ভাড়া দিয়া আওয়া যাওয়া করি। আজকে চাইর পাঁচটা দিন ধইরা একেবারে খালি হাতে বাড়িত যাই। কাজ পাইলে বাজার সদাই করি। কাজ নাই বাজারও করতে পারছি না। খুব কষ্টে টানাটুনি (ঋণ) করে দিন পার কররাম। তাও কামের আশায় ভাড়ার টেকা টা মিলাইয়া আই। আজকেও ১০ টা’র উপরে বাজে এখনো কাম পাইছি না, মনে হয় খালি হাতেই যাওন লাগবো।’
ওয়েজখালির স্বামী পরিত্যাক্ত হামিদা বেগম বললেন, ‘এক ছেলে আর এক মেয়েরে লইয়া বাবা মার সাথে ওয়েজখালি’র ভাড়া বাড়িত থাকি। এক সপ্তাহ ধইরা কোন কাম পাই না। প্রত্যেক দিনেই আইয়া বই ইখানো, কেউ কামে নেয় না। কামও গেলে টেকা পাইলে কিছু জিনিসপত্র কিনতাম পারি।’
সদরগড়ের নির্মল দাস বললেন, ‘বাবা বৃদ্ধ রিকশা চালাইন একদিন বাইর হইলে তিন দিন বারইন না। এখন কারফিউ আওয়ার পর থাকি একবারেই বের অইছেন না। চার ভাই বোনের মধ্যে আমি বড়। যোগালোর কাম করি। ভাই বইনের পড়া লেখা সংসার আমারই চালাইতে অয় (হয়)। আজকে চাইর পাঁচদিন ধইরা একবারেই কাম পাইতাছি না। প্রতিদিনই খালি হাতে বাড়িত যাই।’
শহরের নতুনপাড়া এলাকায় ভাড়ায় থাকা শাখাইতি গ্রামের জন্টু দাস বলেন, এক সপ্তাহ ধইরা একবারেই রোজি রোজগার নাই। স্ত্রী সন্তান নিয়ে প্রায়ই উপাস থাকা লাগে। আজকেও বেলা সাড়ে ১০ টা বাজে এখনো কোন কাম পাইছি না। মনে হয় না আজকে আর কাম পাইমু।
এছাড়াও কাজের প্রত্যাশায় আসা আশিক, গোলাম হোসেন, কামাল মিয়া, সাজিদুুর, শুকলা দেব সহ সবারই একই অবস্থা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন